যশোরের উন্নয়নের রূপকার জননেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
“দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র; তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, ত্যাগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে”
নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং যশোরের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার জননেতা তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন)।
আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৬, প্রয়াত এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তরিকুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও অনুভূত হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তায় আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন) প্রয়াত নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণমানুষের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক পরিচিত নাম। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাহসী ভূমিকা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “তরিকুল ইসলাম ছিলেন একজন অভিজ্ঞ, দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যশোরসহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলামের অবস্থান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরিকুল ইসলাম ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী একটি নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলা ছিল নানা সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
যশোরের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। বিশেষ করে যশোরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচনায় আসে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শার্শা-বেনাপোলের রাজনীতিতেও স্মরণীয় এক নাম
যশোরের শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছেও তরিকুল ইসলাম ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একটি নাম। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীকে অনুপ্রাণিত করেছে।
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন) মনে করেন, একজন প্রকৃত রাজনৈতিক নেতার পরিচয় শুধু তাঁর পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং মানুষের জন্য তাঁর কাজ, রাজনৈতিক আদর্শ, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া অবদানই তাঁকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখে। তরিকুল ইসলাম তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমে সেই পরিচয়ের স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
ধর্মীয় ভাবনায় প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা
শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তায় আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন) প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পবিত্র কোরআনের দোয়া উল্লেখ করেন—
“রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।”
অর্থাৎ, “হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মরহুম তরিকুল ইসলামের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন তরিকুল ইসলাম
সময় চলে যায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়, নেতৃত্বের প্রজন্মও বদলে যায়। কিন্তু যাঁরা নিজেদের কর্ম, ত্যাগ ও অবদানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন, তাঁরা মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকেন। জননেতা তরিকুল ইসলামও দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তেমনই একটি স্মরণীয় নাম।
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন) তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তার মাধ্যমে সেই স্মৃতিকে নতুন করে সামনে এনেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, প্রয়াত এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের ইতিবাচক দিক, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।
মরহুম জননেতা তরিকুল ইসলাম—আপনি বেঁচে থাকবেন মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিতে। মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনকারী:
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান (লিটন)
সাধারণ সম্পাদক, শার্শা উপজেলা বিএনপি।










