১৯৭১-এর অপরাধ, হাসিনার স্বৈরতন্ত্র ও রাজাকারের পুনর্জাগরণ: শহীদদের পক্ষের কণ্ঠস্বর — ইশরাক হোসেনের প্রতিবাদী জ্বালাময়ী উচ্চারণ
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ইশরাক হোসেন আজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ইতিহাসসচেতন, জাতিস্বার্থে উৎসারিত এবং প্রতিরোধপ্রবণ পোস্টে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং রাজাকার উত্তরসূরিদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, আজ যে আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে, এবং যার আওতায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছে—সেই একই আইনের অধীনেই ১৯৭১ সালের রাজাকার-আলবদরদের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও লুটপাটের বিচার হওয়া উচিত ছিল।
জামাতের ছায়া হয়ে উঠলো হাসিনার আওয়ামী লীগ
ইশরাক স্পষ্ট করে তুলে ধরেন, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী যেসব অপরাধ করেছে—সেই ইতিহাস আজ ঘৃণার বস্তু হওয়ার কথা ছিল। অথচ হাসিনা সেই নৃশংসতার বিচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে বিএনপি ও বিরোধীদলীয় দেশপ্রেমিক শক্তিকে দমন করতে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন,
> “যদি শহীদদের রক্ত ও ধর্ষিত নারীদের বেদনার যথার্থ বিচার হতো, তাহলে আজ জাতি এত বিভক্ত ও বিভ্রান্ত হতো না।”
শত্রুর উত্তরসূরি: নির্লজ্জ রাজাকারের পুনরুত্থান
পোস্টে ইশরাক বলেন, আজ এত বছর পরও ১৯৭১ সালের খুনি ও ধর্ষকদের উত্তরসূরিরা নির্লজ্জভাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছে যে, পাক হানাদারদের সঙ্গে করা ‘রাজাকারি’ নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
> “এটা জাতির জন্য এক অভিশাপ—যেখানে রাজাকারদের ছেলেরা আবার মাথা তোলে, শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায়।”
তিনি ক্ষোভে উচ্চারণ করেন,
> “আল্লাহ এদের বিচার করবেন—এই দুনিয়াতে না হোক, পরকালে নিশ্চয় করবেন।”
‘রাজনৈতিক চোর’ ও বিক্রি হয়ে যাওয়া আন্দোলন
ইশরাক বলেন, দেশের লক্ষ ছাত্র ও পরিবার, বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। কিন্তু সেই আন্দোলনের আবেগ ও শহীদের আত্মত্যাগকে কিছু সুবিধাবাদী ‘সমন্বয়কারী’ ও এনসিপির ছদ্মবেশী নেতারা নিজেদের ক্ষমতা ও পদের জন্য বিক্রি করে দেন।
> “আজ আমরা ইতিহাসের মুখোমুখি: শেখ হাসিনার মতোই কিছু নতুন নেতৃত্ব হাঁটছে স্বৈরতন্ত্রের পথেই—পরিবর্তন নয়, কেবল পুনরাবৃত্তি।”
জামাত-আওয়ামী আঁতাতের বিরুদ্ধে বিএনপি’র অবস্থান
এই পোস্টটি শুধু অতীতের ভুল নয়, বর্তমানের হুঁশিয়ারি। বিএনপির পক্ষ থেকে ইশরাক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যারা জামাতের রাজনীতি বা রাজাকারদের মতাদর্শের উত্তরাধিকার লালন করছে, তারা আজও জাতির শত্রু। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সেই রাজনৈতিক রাজাকারের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন,
> “আমরা পিন্ডির দাসত্ব, দিল্লির অনুগত্য কিংবা আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের মতো কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করব না। বিএনপি কখনোই রাজাকার পুনর্বাসন, জামাত সমর্থন বা রাষ্ট্রদ্রোহের ছায়াতলে দাঁড়াবে না।”
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান: ইতিহাসের পক্ষেই ভবিষ্যৎ
পোস্টের শেষাংশে ইশরাক জাতির সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যান—আমরা কী কেবল শাসক বদলাই, না কি শাসনের ধরন ও দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাই?
এই পোস্ট আজকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন তুলেছে। শহীদদের স্মৃতিকে যারা জীবিত রাখতে চান, এবং রাজাকার-জামাত-হাসিনা চক্রের বিরুদ্ধে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরসূরি হিসেবে দাঁড়াতে চান—তাদের জন্য ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য এক আহ্বান, এক আন্দোলনের ডাক।
—
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইশরাক হোসেনের এই জ্বালাময়ী বক্তব্যটি ১৯ জুলাই ২০২৫, তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে।