প্রকাশকাল: ৩ জুলাই ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদন | ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ
—
হাসিনা পরিবার ও করপোরেট লুটপাট: পদ্মা সেতু থেকে ডলারের দালালি পর্যন্ত
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” না “ডিজিটাল ডাকাতি”?
শুরুটা হয়েছিল এক রকম রাজনৈতিক তামাশা দিয়ে—পদ্মা সেতুর ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন’ বলে বিশ্বব্যাংককে আঙুল দেখানো, আর আজ সেটা গড়িয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রযুক্তিনির্ভর দুর্নীতির এক ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্যে। দেশ আজ সেই পরিবারের অর্থনৈতিক দখলে জিম্মি, যাদের স্লোগানে ছিল—”দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স”।
—
◾ পদ্মা সেতু: ‘নিজস্ব অর্থায়ন’ না গোপন কমিশনের পাহাড়?
২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক, ADB, IMF, JICA সকলেই ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টতা, ‘হাই লেভেল কনস্পিরেসি’ শব্দের উল্লেখ—এগুলো কি নিছকই কল্পনা?
পরবর্তীতে কানাডায় SNC-Lavalin মামলা খারিজ হলেও, তদন্ত কৌশলে সীমিত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার কোনোদিনই একটি পূর্ণাঙ্গ, জনসম্মুখে ট্রান্সপারেন্ট তদন্ত করেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ—আজ জনগণের ঘাড়ে বোঝা। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভিন্ন ভিন্ন সাব-প্রজেক্টে দেড়শ’র বেশি সাব-কন্ট্রাক্টর কাদের ছিল? সরকারি হিসাব গোপন, তবে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি গ্রুপের দখলে ছিল বলে অভিযোগ।
—
◾ বিদেশে অর্থপাচার: ১০ বছরে কারা কোটি কোটি ডলার পাঠাল?
গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (GFI) ও সুইস ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ।
প্রধান পাচারকারীদের তালিকায় রয়েছে—রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী-সাংসদ, এবং তথাকথিত ‘উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ৩৫টির বেশি কোম্পানি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট ও আইটি খাতে বিনিয়োগ করেছে।
সজীব ওয়াজেদের নামে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক কোম্পানির মালিকানা পাওয়া গেছে, বিশেষত ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসে।
প্রশ্ন উঠছে—এই অর্থ কোথা থেকে এলো? প্রবাসী আয়ের টাকা নয় নিশ্চয়?
—
◾ Joy-এর টেক সাম্রাজ্য: হাজার কোটি টাকার ‘ডিজিটাল বাবু’
“আমি শুধু পরামর্শ দেই”—জয়ের এই বক্তব্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ যেসব প্রকল্পে তিনি ‘পরামর্শক’, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরাসরি তার ঘনিষ্ঠ মহলেই থাকে।
Aspire to Innovate (a2i) – সরকারের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল প্রকল্প। ব্যয়: ৬ হাজার কোটি টাকা+, উপদেষ্টা জয়। অথচ কোনো টেন্ডারই ছিল না আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে।
StartUp Bangladesh Limited – সরকার পরিচালিত ফান্ডিং প্রতিষ্ঠান, যার ৭৫% প্রকল্পই আওয়ামী লীগ সমর্থিত উদ্যোক্তাদের হাতে।
BHTPA (High-Tech Park Authority) – এখানে একাধিক টেক পার্কে মালিকানা প্যাটার্ন ঘেঁটে দেখা গেছে, জয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের নামে কোম্পানি।
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” প্রকল্পের নামে গত ১০ বছরে ৩৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রাপ্তি? কিছু সরকারি ওয়েবসাইট আর মিডিয়ার হাততালি।
—
◾ হাসিনা পরিবার বনাম বাস্তব বাংলাদেশ:
প্রকল্প ঘোষিত ব্যয় সন্দেহজনক লেনদেন/পাচার সংশ্লিষ্টতা
পদ্মা সেতু ৩০,১৯৩ কোটি ঘুষের অভিযোগ, SNC Lavalin কানাডা মামলা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ
Rooppur Nuclear ১,১৩,০০০ কোটি বালিশ-কেলেঙ্কারি, দাম তিনগুণ রাশিয়া-কেন্দ্রিক লেনদেন
ডিজিটাল বাংলাদেশ ৩৬,০০০+ কোটি ভুয়া সফটওয়্যার প্রজেক্ট, গায়েব হয়ে যাওয়া অর্থ সজীব ওয়াজেদ জয়
ICT Parks ১০,০০০ কোটি একই ঠিকাদার বারবার কাজ পায় রাজনৈতিক সংযুক্তি
—
◾ গোয়েন্দা রিপোর্টের ছায়া: প্যানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে কারা ছিল?
২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া প্যানামা পেপার্সে বাংলাদেশি যেসব নাম উঠেছিল, তাদের অনেকেই সরাসরি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী।
এদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি সজীব ওয়াজেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, দাতা, কিংবা পার্টনার।
এদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অফশোর ট্রাস্ট এবং সেক্রেট কোম্পানিগুলোর ধরন দেখে অনুমান করা যায়—সফটওয়্যার কনসালটেন্সি, টেক সলিউশন, কনস্ট্রাকশন এবং পরামর্শ ফি’র আড়ালে চলছে কোটি কোটি ডলারের পাচার।
—
🔍 উত্তর চাওয়া প্রশ্নগুলো:
1. সজীব ওয়াজেদ জয় কেন সরকারি পদে না থেকেও সরকারি প্রকল্পের উপদেষ্টা?
2. পদ্মা সেতু ও ডিজিটাল বাংলাদেশে কত টাকা দেশে থেকে কতটা গেছে বিদেশে?
3. সরকারের পক্ষ থেকে কি কখনো স্বাধীনভাবে অর্থ পাচার তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে?
4. GFI ও সুইস ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হয়নি?
5. “অত্যন্ত গরিব দেশ” হয়েও কেন প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নাম এত Off-Shore নথিতে?
—
✊ উপসংহার:
শেখ হাসিনার শাসন মানেই একটা বিষয় স্পষ্ট—রাজনীতি নয়, ব্যবসা। রাষ্ট্রযন্ত্র যেন তাদের পারিবারিক লিমিটেড কোম্পানির মতো, যেখানে জনগণ শুধু বিনিয়োগকারী, লাভ ভোগ করে অন্য কেউ।
দেশ আজ বিশ্ব ব্যাংকের কাছে নয়, নিজেদের জনগণের কাছেই জবাবদিহিতাহীন।
বাংলাদেশের সত্যিকারের মুক্তির জন্য এই লুটপাটের জবাব চাই—সরাসরি, নিরপেক্ষভাবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে।
—
প্রকাশিত: ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ