হাসিনার পুত্র সজীবের লকডাউন নীতির নমুনা: গাজীপুরে এক রাতে ৩ বাসে দুর্বৃত্তের আগুন
মো. সুলতান মাহমুদ, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় এক রাতে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোররাতে মহানগরীর বাসন, কাশিমপুর এবং শ্রীপুর উপজেলায় পৃথক তিন স্থানে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে বাসগুলোতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসের পেয়ারা বাগান এলাকায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এর কিছুক্ষণ পর, ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদের চালা এলাকায় দাড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বাসটির ইঞ্জিন ও সিট পুড়ে যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিমপুর থানার চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা আরেকটি বাসেও একইভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত মুহূর্তের মধ্যে বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এতে বড় কোনো প্রাণহানি না হলেও বাসটির আসন ও যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন,
“এক রাতে পৃথক তিনটি স্থানে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থাকা সত্ত্বেও আগুন লাগার পর প্রথমে তারা সাড়া দেননি। তবে মডার্ন ফায়ার স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা প্রথমে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে অবহিত করে, পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাশিমপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান,
“রাতের অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্যোতি ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি বাস মেরামতের কাজ চলছিল। সেই সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক মুহূর্তের মধ্যে বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।
তবে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক রাতের ব্যবধানে তিনটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় তারা বলছেন— “এ যেন নতুন করে আতঙ্ক ও অঘোষিত লকডাউনের সূচনা।”