• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি

সরকারি চাকরিতে বহাল ‘ভূমিদস্যু’ নুরুদ্দিন মিয়া হত্যাচেষ্টা ও জমি দখল মামলার আসামি হয়েও প্রশাসনের নীরবতা

Reporter Name / ১২০ Time View
Update : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

 

সরকারি চাকরিতে বহাল ‘ভূমিদস্যু’ নুরুদ্দিন মিয়াহত্যাচেষ্টা ও জমি দখল মামলার আসামি হয়েও প্রশাসনের নীরবতা

 

ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

ভূমিদস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও ফৌজদারি অপরাধের একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন নুরুদ্দিন মিয়া। সরকারি পিজি হাসপাতালে কর্মরত এই ব্যক্তি বর্তমানে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। অথচ প্রশাসনের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের পাহাড়, তবু বহাল তবিয়তে চাকরি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ধানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নুরুদ্দিন মিয়া দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিচয়ের জোরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের জমি দখল, ভুয়া দলিল তৈরি ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছেন।

তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলা নং: সিআর ৯৩১/২৪/২০২৪ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৪, ১৪৭, ১৪৯, ১৫৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে উল্লেখ আছে—তিনি বেআইনি সমাবেশে অংশ নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর মারধর, সম্পদ লুট, হত্যাচেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

আইন বলে—ফৌজদারি মামলার আসামি হলে স্থগিতাদেশ বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশ সরকারি চাকরিজীবী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু পিজি হাসপাতালের কর্মচারী নুরুদ্দিন মিয়ার ক্ষেত্রে সে নিয়ম কার্যকর করা হয়নি।
এর ফলে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের নীরবতা

মাতুয়াইল ধানবাড়ির স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, “নুরুদ্দিন মিয়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনকে তোয়াক্কা করেন না। তিনি সরকারি পদে থেকে নিজের প্রভাব বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করছেন।”

একজন স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক বলেন,

> “আমাদের এলাকায় বহু মানুষের জমি ভুয়া কাগজে দখল করেছে নুরুদ্দিন। যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের মারধর করা হয়েছে, কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এখন এমন একজন মানুষ সরকারি চাকরিতে বহাল থাকায় আমাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত: এটি সরাসরি শৃঙ্খলাভঙ্গ

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ফৌজদারি মামলার আসামি হন, তাহলে তাকে সাসপেনশন (Suspension) ছাড়া চাকরিতে বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই।
প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইন বিশ্লেষক ব্যারিস্টার একরামুল হক বলেন—

> “এটি শুধু সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন নয়, এটি প্রশাসনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার শামিল। যদি এমন উদাহরণ চলতে থাকে, তাহলে দুর্নীতি, প্রভাব ও অপরাধের সংস্কৃতি আরও গভীর হবে।”

জনগণের দাবি: তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত হোক

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে নুরুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ যাচাই, সাময়িক বরখাস্ত এবং দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।
তারা আরও বলেন—

> “অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার চাকরিচ্যুতি, ফৌজদারি সাজা এবং সম্পদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি উদাহরণ তৈরি না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ আইনের ওপর আস্থা হারাবে।”

কী শাস্তি হতে পারে

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নুরুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি চাকরি বিধিমালা ২০১৮-এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী চাকরিচ্যুতি, পদচ্যুতি বা স্থায়ী বরখাস্তের শাস্তি হতে পারে।
এছাড়া ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।

সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা একজন ফৌজদারি মামলার আসামি শুধু প্রশাসনের ব্যর্থতাই নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় এক প্রশ্নচিহ্ন। জনগণের দাবি—অভিযুক্ত নুরুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হোক।


More News Of This Category
bdit.com.bd