শ্রীপুর সরকারি কলেজে ‘রড কামাল’ নামে পরিচিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
এডমিট কার্ড বাবদ ২৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দাবি—“এটা জুলুম, এটা অন্যায়”
মোঃ সুলতান মাহমুদ, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামাল স্যারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি ‘রড কামাল’ নামে পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে টাকা আদায় করেন, যা এখন তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
এডমিট কার্ড বাবদ ২৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ
সম্প্রতি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, এডমিট কার্ড দেওয়ার নামে প্রতি ছাত্রছাত্রী থেকে ২৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি কলেজে এডমিট কার্ড বাবদ কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “একটি এডমিট কার্ড প্রিন্ট করতে বড়জোর ২ টাকা খরচ হতে পারে, কিন্তু ২৫০ টাকা নিচ্ছেন কেন? এই টাকা কই যায়?”
অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয় এবং পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। এতে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের হাতে
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অডিও রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, যেখানে কামাল স্যারের কণ্ঠে টাকা দাবি করার কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি তাদের। এসব অডিও এখন ক্যাম্পাসে ঘুরছে, এবং শিক্ষার্থীরা তা বিভিন্ন মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “স্যার নানা অজুহাতে টাকা চান। কখনো বলেন প্রিন্ট খরচ, কখনো বলেন ডিপার্টমেন্টের তহবিল। কিন্তু রশিদ কিছুই দেন না। এটা স্পষ্টভাবে জুলুম।”
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবিসমূহ
কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি কলেজে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
শিক্ষার্থীরা চান—
1. কলেজ কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে।
2. ভবিষ্যতে কোনো টাকা নিলে তা সরকারি অনুমোদিত রশিদ ও ডকুমেন্টের মাধ্যমে নেওয়া হোক।
3. যেসব শিক্ষক বা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কলেজ প্রশাসনের অবস্থান
বিষয়টি নিয়ে কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
> “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সংগঠিত প্রতিবাদ ও প্রমাণ উপস্থাপন ইঙ্গিত দিচ্ছে—এবার হয়তো প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, শ্রীপুর সরকারি কলেজ যেন এমন অনিয়মের জায়গা না হয়ে, সত্যিকারের শিক্ষা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়ায়।