রুমিন-নীরবসহ বিএনপির ৯ হেভিওয়েট নেতাকে বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনসহ মোট ৯ জন নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কেন এই কঠোর ব্যবস্থা?
তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এই বহিষ্কারের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়া।
রুমিন ফারহানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি এবার জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছাড় দিয়েছে। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। কিন্তু রুমিন ফারহানা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সাইফুল আলম নীরব: তাকে প্রথমে ঢাকা-১২ আসনের জন্য ভাবা হলেও পরবর্তীতে আসনটি জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
হাসান মামুন: পটুয়াখালী-৩ আসনটি শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেওয়ায় হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রুমিন ফারহানা বলেছিলেন, “আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরে। ধানের শীষের জোয়ারের বিপক্ষে আমাকে আজ স্বতন্ত্র লড়তে হচ্ছে।” দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি আগেভাগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দল ব্যবস্থা নিলে তিনি বাধা দেবেন না।
বহিষ্কৃত অন্যান্য নেতারা হলেন:
১. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ২. মোহাম্মদ শাহ আলম (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৩. আব্দুল খালেক (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য) ৪. তরুণ দে (বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব) ৫. মামুনুর রশিদ (সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি) ৬. কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ (বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আজকের খবরে আরও জানা গেছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং দাফনের জন্য শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়ার কবরের পাশে প্রস্তুতি চলছে।