• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ‘মেম্বার পার্টি’র তাণ্ডবের অভিযোগ: টিপসই দলিলে ১৮ হিন্দু পরিবার ও মন্দির উচ্ছেদের শঙ্কা ১৯ জুলাই রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সেই দেশপ্রেমিক প্রকৌশলী জুয়েলকে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার অভিযোগ, নথিতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার তথ্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেধাস্বত্বের আন্তর্জাতিক কাঠামো, কৃষকের বীজ অধিকার ও জেনেটিক প্রযুক্তি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন—তবে বিতর্কিত দাবির সঙ্গে প্রমাণিত তথ্য আলাদা করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের UNGA-৮১ শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, শান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন সহযোগিতার অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী শার্শায় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশ যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের বিক্ষোভে মিছিল সহকারে অংশ নিল শার্শা উপজেলা ছাত্রদল আরাফাত রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ কোয়ার্টার ফাইনালে তুমুল উত্তেজনা, পেনাল্টি শুটআউটে রাহাত ট্রেডার্সকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে সিংড়ায় বিএনপির কর্মীসভা পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতির পিতার ইন্তেকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অ্যাডমিন অফিসার হাজী মোঃ ওয়াহিদ উদ্দিন আহমেদ আর নেই তাবিজ-কবচ ও বনাজী ওষুধে চিকিৎসার দাবি, ভুক্তভোগীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ ও কথিত সাংবাদিক রফিকের বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ

যশোর-বেনাপোল সীমান্তে অস্ত্রের ‘সেফ প্যাসেজ’: ট্রাকের আড়ালে মিলনের মারণাস্ত্র সাম্রাজ্য, টার্গেট কি তবে নির্বাচন?

শামীম রেজা / ১৯৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

 

যশোর-বেনাপোল সীমান্তে অস্ত্রের ‘সেফ প্যাসেজ’: ট্রাকের আড়ালে মিলনের মারণাস্ত্র সাম্রাজ্য, টার্গেট কি তবে নির্বাচন?

শামীম রেজা, অপরাধ ডেস্ক | ২ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বেনাপোলের অস্ত্র সিন্ডিকেট
পণ্যবাহী ট্রাকের আড়ালে মিলনের ‘অস্ত্র রাজত্ব’: নেপথ্যে কি তবে নির্বাচন বানচালের মহাপ্রকল্প?

ভারতীয় চালকের জবানবন্দিতে থলের বিড়াল বেরুলো • ১.৩০ লাখ টাকার পিস্তল চুক্তি ও ডিজিটাল প্রমাণ এখন জনসমক্ষে • দেশপ্রেমিক নাগরিকদের চরম আল্টিমেটাম: ‘মিলনকে গ্রেফতার না করলে নির্বাচনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান বাণিজ্যিক রুট বেনাপোল এখন কেবল আমদানিকৃত পণ্য নয়, বরং মারণাস্ত্রের এক ভয়ঙ্কর করিডোরে পরিণত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের লাল সংকেত (Red Alert) হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই অন্ধকার জগতের মূল হোতা হিসেবে নাম উঠে এসেছে কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী মিলন-এর। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের মাধ্যমে সে যেভাবে মারণাস্ত্রের চালান দেশে নিয়ে আসছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিটাল প্রমাণে ফেঁসে যাচ্ছে ‘অস্ত্র সম্রাট’ মিলন
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি জনৈক ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার জয়নালের সাথে মিলনের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধে এই পাচার চক্রের হাড়ির খবর প্রকাশ্যে আসে। ড্রাইভার জয়নালের জবানবন্দি ও স্থানীয় দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সরবরাহকৃত তথ্য অনুযায়ী, মিলনের সঙ্গে একটি ৭.৬৫ ক্যালিবারের পিস্তল ক্রয়ের চুক্তি হয়।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ:

চুক্তিমূল্য: ১,৩০,০০০ (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা।

অগ্রিম লেনদেন: ১৫,০০০ টাকা (ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন)।

বকেয়া পাওনা: ১,১৫,০০০ টাকা।

পরিবহন পদ্ধতি: ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের গোপন কুঠুরি।

টাকা নেওয়ার পর মিলন ওই চালকের সাথে প্রতারণা করে আত্মগোপনে চলে যায়। বর্তমানে ড্রাইভারের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কল রেকর্ড এখন মিলনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গোয়েন্দাদের দপ্তরে পৌঁছেছে।

পণ্যবাহী ট্রাক: মারণাস্ত্রের সেফ প্যাসেজ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিলন তার সিন্ডিকেট পরিচালনার জন্য ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাককে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ভারতীয় ট্রাক চালকদের সাথে গোপন সখ্যতা গড়ে তুলে সে ট্রাকের কেবিন বা ইঞ্জিনের নিচের বিশেষ অংশে পিস্তল ও রিভলভার লুকিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পণ্য খালাসের আড়ালে মিলন ও তার সহযোগীরা মুহূর্তের মধ্যে সেই মারণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নেয়।

দেশপ্রেমিক নাগরিক ও বিশিষ্টজনদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় বেনাপোলের সচেতন মহল ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মিলনের মতো অপরাধীরা যখন রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবহার করে অস্ত্র আনে, তখন রাষ্ট্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা (অব.) কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম বলেন:

“বেনাপোল একটি স্পর্শকাতর এলাকা। ট্রাকের আড়ালে যদি একটি পিস্তলও ঢোকে, তবে সেটি দিয়ে একজন জাতীয় নেতা বা শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা করা সম্ভব। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের তৎপরতা স্পষ্টত একটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। মিলনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে তার ‘ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ’ খুঁজে বের করা জরুরি।”

বেনাপোলের নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির একজন প্রতিনিধি জানান:

“মিলন দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের কর্মচারীর পরিচয় ও আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছে। আমরা চাই প্রশাসন তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করুক। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কোনো দল নেই। যারা দেশপ্রেমিক, তারা কখনোই এমন সন্ত্রাসীকে সমর্থন করতে পারে না।”

রাজনৈতিক লেবাস ও নাশকতার নীল নকশা
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিলন আওয়ামী লীগের ছাত্রছায়ায় বড় হলেও বর্তমানে সে একটি স্বতন্ত্র অপরাধী চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর হয়ে কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর লক্ষ্যেই মিলন এই অস্ত্রের বড় বড় চালান দেশে ঢোকাচ্ছে। দেশপ্রেমিক জনগণের দাবি—আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজনীতির চেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সচেতন মহলের ৫ দফা চূড়ান্ত দাবি:
১. তাৎক্ষণিক গ্রেফতার: চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মিলন ও তার নেপথ্যের গডফাদারদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা। ২. অস্ত্র উদ্ধার অভিযান: ইতোমধ্যে যেসকল অস্ত্র স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ক্যাডারদের হাতে গেছে, তা দ্রুত উদ্ধারে ‘জয়েন্ট অপারেশন’ শুরু করা। ৩. বন্দরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ভারত থেকে আসা প্রতিটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের সময় ডিজিটাল স্ক্যানিং ও কড়া তল্লাশি নিশ্চিত করা। ৪. চক্রের চেইন উদঘাটন: ভারতীয় ড্রাইভাদের সাথে যোগাযোগ থাকা অন্যদের তালিকা তৈরি করা। ৫. নির্বাচনী নিরাপত্তা সেল: নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে বেনাপোলে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা।

প্রশাসনের নীরবতা ও জনমনে প্রশ্ন
প্রমাণের পাহাড় থাকা সত্ত্বেও মিলন কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেই প্রশ্ন এখন বেনাপোলের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রশাসনের ভেতরে থাকা কোনো ‘কালো হাত’ কি মিলনকে রক্ষা করছে? দেশপ্রেমিক নাগরিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসা একটি ছোট বুলেটও হতে পারে বড় কোনো বিপর্যয়ের কারণ। মিলনের মতো চক্রের মূল উৎপাটন করা না গেলে নির্বাচনের দিন সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হতে পারে জনপদ। সময় এখন প্রশাসনের—তারা কি অপরাধীর পক্ষে থাকবে, নাকি দেশের আমজনতার নিরাপত্তার পক্ষে দাঁড়াবে?


More News Of This Category
bdit.com.bd