মিরপুরের ১২ নং ওয়ার্ডের ‘ত্রাস’ মালেক: ঘর জামাই থেকে যেভাবে হয়ে উঠলেন মাদক সম্রাট ও খুনি
নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরপুর | সময়: ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
মিরপুরের ১২ নং ওয়ার্ডে এক সময়কার সাধারণ ‘ঘর জামাই’ মালেক এখন এলাকার মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে গত এক দশকে তিনি গড়ে তুলেছেন মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। শুধু মাদকই নয়, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি অস্ত্র হাতে মিছিলে হামলা ও হত্যার অভিযোগে এখন তিনি যৌথবাহিনীর অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী।
যেভাবে উত্থান এই দালালের: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালেক মিরপুরের ১২ নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার মেয়েকে প্রেমের জালে ফেলে বিয়ে করে ওই বাড়িতেই ‘ঘর জামাই’ হিসেবে থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকেই মূলত তার অপরাধ জগতের যাত্রা শুরু। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন তিতু, শামছুল হক এবং স্বপন শিকদারদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। নিজেকে পুলিশের ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।
বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর জুলুম ও চাঁদাবাজি: মালেকের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল পুলিশের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি। এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে তিনি নিয়মিত পুলিশের ভয় দেখাতেন। পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় তিনি যাকে-তাকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতেন। গ্রেফতার এড়াতে অনেক অসহায় নেতা-কর্মী মালেককে লক্ষ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে ‘পুলিশের ক্যাশিয়ার’ বলেও ডাকতেন।
মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য: মিরপুর ১২ নং ওয়ার্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদকের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এই মালেক। ইয়াবা থেকে শুরু করে ফেন্সিডিল—তার সিন্ডিকেট পুরো এলাকায় জাল বিস্তার করেছিল। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে তিনি এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতেন। তার এই ব্যবসার কারণে এলাকার শত শত তরুণ আজ ধ্বংসের পথে।
৫ আগস্টের গণহত্যায় মালেকের ভূমিকা: সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে গত ৩, ৪ এবং ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সাধারণ ছাত্র ও জনতার ওপর যখন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, তখন মালেককে অস্ত্র হাতে সামনের সারিতে দেখা যায়। ইকবাল হোসেন তিতু ও স্বপন শিকদারদের নির্দেশে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালান। ছাত্র-জনতা হত্যার সরাসরি ভিডিও ফুটেজেও তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।
বর্তমানে পলাতক: ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই মালেক তার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও তার সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এখন তার দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
যৌথবাহিনীর অভিযান: সূত্র জানিয়েছে, মালেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে একাধিক হত্যা মামলা ও মাদক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যৌথবাহিনী তাকে ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ এই খুনি ও মাদক সম্রাটকে ধরিয়ে দিতে যৌথবাহিনীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
বি.দ্র.: আপনার কাছে যদি মালেকের বর্তমান অবস্থান বা তার অপরাধের আরও কোনো সুনির্দিষ্ট ছবি/ভিডিও থাকে, তবে তা দ্রুত নিকটস্থ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।