বেনাপোল ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নে ইনতাজুর রহমানের ১৭ বছরের ‘ত্রাসের রাজত্ব’: নেপথ্যে মাদক ও চোরাচালানের বিশাল সিন্ডিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক,
বেনাপোল যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের ৮৯১ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে গত ১৭ বছর ধরে একচ্ছত্র মাফিয়া রাজত্ব কায়েম করেছেন ইনতাজুর রহমান। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বন্দরের শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন এবং গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। বর্তমানে তার গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শ্রমিকরা।
শ্রমিক ইউনিয়ন যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ অভিযোগ রয়েছে, ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়নের পদ ব্যবহার করে ইনতাজুর রহমান সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধ কমিশন এবং শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন তিনি। সাধারণ একজন শ্রমিক নেতা থেকে আজ তিনি অঢেল অর্থ ও বিত্ত-বৈভবের মালিক।
৫ আগস্টের পর হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরপর ইন্তাজুর আর ফেরেনি শ্রমিক ইউনিয়নে, কিন্তু তার অপরাধের সাম্রাজ্য দিগুণ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাদক ও অস্ত্রের মাফিয়া সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে প্রশাসনের চোখের সামনেই তিনি সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ:
মাদক সিন্ডিকেট: সীমান্ত পথে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল ও হিরোইনের বড় বড় চালানে তার বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ পাচার: সোনা, ডলার ও হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথেও তার সংশ্লিষ্টতার কথা বলছেন স্থানীয়রা।
সন্ত্রাসী বাহিনী: নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভিন্নমতাবলম্বী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও দাবি বিগত সরকারের পতনের পর ইনতাজুরের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মতে, ইনতাজুর রহমান ছিলেন বেনাপোলের ‘অঘোষিত সম্রাট’। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে বন্দরের অনেক বড় বড় অপরাধের রহস্য উন্মোচিত হবে।
দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ: বেনাপোলের সচেতন মহল অবিলম্বে ইনতাজুর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব তদন্ত করে তা বাজেয়াপ্ত করার এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ শ্রমিকরা বলছেন, “আমরা ১৭ বছর জিম্মি ছিলাম, এখন আমরা এই মাফিয়া নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”