জনতার কন্ঠস্বর ডেস্ক রিপোর্ট :তারিখ ও সময়: ৭ আগস্ট ২০২৫, রাত ৯:৩২
তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: নিশ্চিত করলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে লন্ডন নির্বাসন শেষে দেশে ফিরবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে নিশ্চিত করেছেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, “দেশের জনগণের জন্য তারেক রহমান প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেশের মাটিতে পা রাখবেন।”
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রবাস-জীবনের অবসানের দিকেই এগোচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক: আলোচনায় নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রসঙ্গ
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আসার আগে, বুধবার হুমায়ুন কবীর জানান যে, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
গোপন ও একান্ত এই বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা আগামী নির্বাচন ও সম্ভাব্য সরকার গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। হুমায়ুন কবীর বলেন,
> “আমরা বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনী রূপরেখা, সরকার গঠনের পরিকল্পনা এবং একটি দায়বদ্ধ, সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে — বিএনপি কেমন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”
এ সময় নির্বাচন-পরবর্তী সরকার পরিচালনায় বিএনপির নীতি, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।
—
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: একটি যুগান্তকারী মুহূর্তের পথে?
বহু বছর ধরে বিদেশে অবস্থানরত তারেক রহমানকে ঘিরে নানা গুজব ও আলোচনা চলছিল। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপি শিবিরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে ফিরে কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, নির্বাচনোত্তর জাতীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন। তার দল ইতোমধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনপূর্ব ট্রানজিশন প্ল্যান প্রস্তুত করেছে।
—
চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও সংকেত
বিএনপি সূত্র মতে, ঢাকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জন্য ‘রিসিভিং অপারেশন’ ইতোমধ্যে প্রস্তুত। আইনজীবী দল, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি ইউনিটকে ‘চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে’ রাখা হয়েছে।
বিষয়টি বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন,
> “তফসিল ঘোষণার দিন আমরা শুধু নির্বাচন নয়, তারেক রহমানকে বরণ করার জন্যও রাজপথে থাকব। সেটা হবে এক ঐতিহাসিক দিন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা নিঃসন্দেহে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যেখানে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে জাতি তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর— সেখানে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।