জীবনের জন্য চামড়া দিন: মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পর স্কিন ডোনেশনে এগিয়ে আসার আহ্বান
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | ২৪ জুলাই ২০২৫
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সদ্য ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর জীবন এখন চরম সংকটে। পুড়ে যাওয়া শরীরের চামড়া প্রতিস্থাপন ছাড়া তাদের অনেকেরই চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় বার্ন ইউনিটে স্কিন ডোনেশন এখন জীবন রক্ষার একমাত্র আশার আলো।
এ পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুব হাসান এর তত্ত্বাবধানে স্কিন ডোনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে এগিয়ে আসছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানবিক এই উদ্যোগে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছেন বার্ন বিশেষজ্ঞ ও যশোরের কৃতি সন্তান ডা. রুবাইয়া রীতি এবং সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন ডা. দীপা চৌধুরী। স্কিন ডোনেশন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তিনি সরাসরি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
স্কিন ডোনেশন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. শরীরের উরু (থাই), পিঠ অথবা পেছনের অংশ থেকে পাতলা স্তরের চামড়া নেওয়া হয়।
২. এই অংশগুলোতে চামড়া প্রাকৃতিকভাবেই ১০–১৪ দিনের মধ্যে পুনরায় গজিয়ে ওঠে।
৩. চামড়া সংগ্রহের পর সামান্য হালকা দাগ পড়তে পারে, তবে এটি কোনো শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করে না।
৪. একবার চামড়া দান করলেও ভবিষ্যতে আবার প্রয়োজনে দান করা যায়।
আপডেট: কল দিন 01306990152 নম্বরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কিন ডোনেশন একটি নিরাপদ, আধুনিক ও জীবনদায়ী চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ, যা উন্নত বিশ্বে বহুদিন ধরে অনুসরণ হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এখন এই পদ্ধতির প্রয়োগে অনেক জীবন রক্ষা সম্ভব।
এই উদ্যোগে প্রথম থেকেই সম্পৃক্ত ডা. রুবাইয়া রীতি বলেন, “চামড়া দেওয়া একটুও ক্ষতিকর নয়। যারা অল্প কষ্ট স্বীকার করতে পারেন, তারা যদি এগিয়ে আসেন— তাহলে একেকজন মানুষ বেঁচে যাবে। এটা শুধু চিকিৎসা নয়, এটা এক ধরনের মানবতা।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কিন ডোনেশনের আহ্বান জানিয়ে লেখা এক পোস্টে ডা. দীপা চৌধুরী বলেন, “আমি দিচ্ছি, আপনারাও এগিয়ে আসুন। আপনার দেওয়া চামড়াতেই হয়তো কারও জীবন ফিরবে।”
বর্তমানে স্কিন ডোনেট করতে আগ্রহীদের ডা. দীপা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তাঁরা প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য যাচাই শেষে স্কিন ডোনেটের উপযুক্ততা নির্ধারণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন।
আরও অনেকে এগিয়ে এলে রক্ষা পাবে অসংখ্য জীবন
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় দগ্ধ অন্তত ৩০ জনের জরুরি ভিত্তিতে স্কিন গ্রাফটিং প্রয়োজন। স্কিন ডোনেশন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অন্তত প্রতিদিন ১০-১৫ জন ব্যক্তি স্কিন ডোনেট করেন, তাহলে একসাথে অনেক রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।
—
চামড়া দান মানেই একটি জীবন রক্ষা।
নিজের সামান্য কষ্ট আর সাহস দিয়ে কেউ একজন আবার বাঁচতে পারে।
এটাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত।
যারা স্কিন ডোনেট করতে চান, তারা সরাসরি ডা. দীপা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মানবতার জয় হোক। বেঁচে থাকুক জীবন।
এসব তথ্য ডাক্তার রুবাইয়া রীতি তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।
খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট সবাই শেয়ার করুন, হতে পারে কেউ আপনার শেয়ারে আগ্রহী হবে।