তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৫, সময়: সকাল ১০:১২
রিপোর্ট: আজিজুল হক, সিনিয়র রিপোর্টার, বেনাপোল
গণ-অভ্যুত্থান দিবসে বেনাপোল বন্দরে থেমে গেল আমদানি-রফতানি, সচল শুধুই যাত্রী চলাচল
আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর) থেকে ●
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণে আজ ৫ আগস্ট, মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সীমান্ত পেরিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বাধা নেই।
সকাল ৯টা থেকেই বন্দর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের উভয় পাশে থমকে গেছে পণ্য পরিবহন। পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাক দুই দেশের বন্দরে আটকা পড়ে রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই কাঁচামাল ও পচনশীল দ্রব্য—যেমন ফলমূল, খাদ্যসামগ্রী, মাছ ও শিল্পপ্রয়োজনীয় কেমিক্যাল।
অস্থিরতা বন্দরজুড়ে, ক্ষতির শঙ্কা ব্যবসায়ীদের
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ ট্রাক চলাচল করে। কিন্তু হঠাৎ ছুটি ঘোষণায় এসব পণ্য আটকে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে। বিশেষ করে পচনশীল দ্রব্যের মান রক্ষা ও ডেলিভারিতে বিলম্ব অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক নামে একজন জানান,
“আমার চারটি ট্রাকে ফল ছিল—সবই নষ্ট হয়ে যাবে যদি কালকের মধ্যে খালাস না হয়। সরকারের উচিত ছিল ছুটির ব্যাপারে আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা।”
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও পরবর্তী প্রস্তুতি
এ প্রসঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান,
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তাই আজ (মঙ্গলবার) আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে পুরোদমে আবারও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দর ও কাস্টমস হাউজের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও নিরাপত্তা ও ট্রাফিক কন্ট্রোল স্বাভাবিক আছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।”
অন্যদিকে, সীমান্ত পয়েন্টে যাত্রী চলাচল নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় চলমান
যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, বন্দর চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন, বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিদিন বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে গড়ে তিন হাজারের মতো যাত্রী পারাপার করেন, যাদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা, ব্যবসা বা শিক্ষাসংক্রান্ত ভিসায় ভারতে যাতায়াত করেন।
জাতীয় প্রেক্ষাপটে বন্দর ছুটি ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’
৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ, গণজাগরণ ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। সরকার এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির ঘোষণা দিয়ে গণআন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ছুটির দিনে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট পূর্ব ঘোষণা এবং বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ধরনের জাতীয় দিবসে অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও প্রশমিত করা সম্ভব।
—
📞 যোগাযোগ: আজিজুল হক
সিনিয়র রিপোর্টার, বেনাপোল
মোবাইল: ০১৮১৯-১১২৪৭৪
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com