২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ – জনতার কণ্ঠস্বর
কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে সচিব! সরকারের নিয়োগ বাণিজ্যে ভয়াবহ চিত্র
ঢাকা: বর্তমান সরকারের আমলে সচিব পদে নিয়োগে কোটি কোটি টাকার অবাধ বাণিজ্য চলছে—এমন অভিযোগ দিন দিন নতুন করে প্রকাশ্যে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনা প্রমাণ করছে যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদগুলো এখন নগদ অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে বণ্টিত হচ্ছে।
ঘটনা এক
গত ডিসেম্বরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার পথে এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাধাগ্রস্ত হলে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়—“আমরা শত কোটি টাকা খরচ করব, আপনি শুধু হ্যাঁ বলুন।” কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, জানিয়ে দেন—“আমি দুর্নীতির সাথে আপোষ করব না।”
ঘটনা দুই
একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, তাঁকে ৩০–৩৫ কোটি টাকার বিনিময়ে জ্বালানি সচিব করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। চুক্তিপত্রে সই ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তও রাখা হয়। তবে তিনি এতে রাজি হননি।
ঘটনা তিন
বর্তমান বাণিজ্য সচিব মাহবুবের নাম ঘিরে ৩৫ কোটি টাকার চুক্তিপত্রের কপি ফাঁস হয়েছে। দীর্ঘদিন গোপন রাখা হলেও দলিল যাচাই শেষে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনা চার
১৩ ব্যাচের এক কর্মকর্তা মাত্র তিন মাস সচিব থেকে ওএসডি হয়ে গেছেন। তাঁকে সচিব করার প্রস্তাব ছিল ৩০–৩৬ কোটি টাকায়।
ঘটনা পাঁচ
কাস্টমস ক্যাডারের এক কর্মকর্তাকে ৩৫ কোটি টাকায় সচিব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকায় তাঁর একাধিক বাড়ি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে। এনবিআরে শত কোটি টাকার ডিল প্রস্তুত রেখেছেন তিনি।
ঘটনা ছয়
এক অধিদপ্তরের ডিজিকে দুর্যোগ সচিব করার জন্য ৩০ কোটি টাকার অফার দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সাত
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১০০ কোটি টাকার চুক্তিতে। নগদ ২.৫ কোটি টাকাও লেনদেন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চার মাসের বেশি টিকতে পারেননি। সচিবালয়ে এ খবর এখন সবার জানা।
ঘটনা আট
গত বছর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব বানাতে ১২ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল একজন কর্মকর্তাকে। প্রস্তাবে ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও একজন অতিরিক্ত সচিব। তবে ওই কর্মকর্তা রাজি না হলেও পরবর্তীতে বিনা খরচে দুর্বল স্থানে সচিব হন।
সার্বিক চিত্র
এই একের পর এক ঘটনা স্পষ্ট করছে যে সচিব পদে নিয়োগ এখন আর যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়; বরং টাকার বিনিময়েই স্থির হচ্ছে কারা রাষ্ট্রযন্ত্র চালাবেন। এর ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্নীতির গভীর ফাঁদে আটকে যাচ্ছে।
উপসংহার
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদগুলো যখন বেচাকেনার পণ্য হয়ে যায়, তখন সেই রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে। দুর্নীতির এ চক্র ভাঙা না গেলে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে।