তারিখ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বেনাপোল, যশোর:
দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর সাংবাদিক মহলের অব্যাহত অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জেরে অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর জেলা কার্যালয় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৬নং শুক্লায়ন গ্রুপের কাস্টমস সুপার শামিমা আক্তার শারমিন-কে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে সাংবাদিকরা মাঠপর্যায়ে তদন্ত ও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে প্রশাসনিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক যশোরের একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার দুপুরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে অভিযান চালিয়ে শামিমা আক্তার শারমিনকে আটক করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ঘুষ বাণিজ্য, কাগজপত্রে জালিয়াতি এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যশোর দুদক কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “শামিমা আক্তার শারমিন দীর্ঘদিন ধরে কিছু দালাল ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্ক বজায় রেখে অফিসের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। সাংবাদিকদের অনুসন্ধান না হলে এই ব্যবস্থা নাও আসতে পারত।”
স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনাকে “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জয়” হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ভূমিকা আজও গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি গঠনে অপরিহার্য প্রমাণিত হয়েছে।
দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কেবল শুরু করেছি। বেনাপোল কাস্টমসের আরও কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এবং শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মপরিবেশে এক ধরনের আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, এটি হয়তো দুর্নীতিবিরোধী একটি নতুন যুগের সূচনা—যেখানে সাংবাদিকতার কলমই হয়ে উঠছে প্রকৃত শুদ্ধির হাতিয়ার।