• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত?

“আল হারামাইন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় বাবার মৃত্যু: চিকিৎসক কন্যা নূরিয়ার হাইকোর্টে বিচারপ্রার্থনা—স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র উন্মোচিত!”চিকিৎসক অপরাধীর কাঠগড়ায়

Daily Bangladesh Prothom Sangbad / ২২৯ Time View
Update : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

 

আল হারামাইন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু—ভুক্তভোগীর মেয়ে নূরিয়া জাহানের হাইকোর্টে তদন্ত ও বিচারের আবেদন।

স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

সিলেটের সুবহানীঘাটস্থ আল হারামাইন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আবারও ভয়ংকর চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
এইবার মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে—জনাব বেদার আহমদ (৬৯)–এর মৃত্যু, যিনি মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর মেয়ে ডা. নূরিয়া জাহান।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজের পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে মহামান্য হাইকোর্টের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে চার দফা আবেদন জানিয়েছেন—যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন,
“একজন চিকিৎসক হয়েও আমার বাবাকে ভুল চিকিৎসার হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না—এ এখন শুধু ব্যক্তিগত শোক নয়, পুরো দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।”

ঘটনার সারসংক্ষেপ

১২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় দুইবার বমি ও কাশি বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয় ডা. রাহাত আমিন চৌধুরীর অধীনে আল হারামাইন হাসপাতালে।
ভর্তি–সময় সমস্ত vitals ছিল স্বাভাবিক, রোগী ছিলেন সম্পূর্ণ সচেতন, এবং খাওয়া–দাওয়া করছিলেন।
পরদিন—১৩ নভেম্বর—তিনি মারা যান।

পরিবারের অভিযোগ,
“ভুল ইনসুলিন ডোজ, হাইপোগ্লাইসেমিয়া উপেক্ষা, মনিটরিং ছাড়াই হ্যালোপেরিডল প্রয়োগ, অক্সিজেন ছাড়াই ভুলভাবে সাকশন—এসব একের পর এক প্রাণঘাতী ভুলই বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী।”

 

ভুক্তভোগীর মেয়ে নূরিয়া জাহান যে ৫টি চিকিৎসাগত অবহেলার প্রমাণ তুলে ধরেছেন—

১️ স্বাভাবিক রক্তশর্করায় ভুল ইনসুলিন দেওয়া—চিকিৎসার প্রথম বড় ভুল

১৩ নভেম্বর সকালে রোগীর FBS ছিল ৭.১ mmol/L, যা স্বাভাবিকের কাছাকাছি।

তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে নিজ বোনকে নির্দেশ দেন যাতে নার্সকে জানানো হয়—ইনসুলিন না দেওয়ার জন্য।
কিন্তু নার্স:

কোনোরূপ অনুমতি ছাড়াই

ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া

রোগীর অবস্থার মূল্যায়ন ছাড়াই

১৬ ইউনিট ইনসুলিন প্রয়োগ করেন।

পরের দিন আবারও দেন
২০ + ২০ + ১৮ ইউনিট,
যা চিকিৎসা–প্রোটোকল অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য—কারণ রোগী তখন বমি করছিলেন ও কম খাবার গ্রহণ করেছিলেন।

RBS 3.1 হওয়ার পরও ৩ ঘণ্টা কোনো চিকিৎসা নয়

ইনসুলিনের পর রোগীর RBS নেমে যায় ৩.১ mmol/L–এ—যা অতিমাত্রায় বিপজ্জনক।
কিন্তু নার্স:

বিষয়টি পরিবারকে জানাননি

কোনো ডাক্তারকে জানাননি

কোনো ডেক্সট্রোজ দেননি

শুধু বলেছেন—“কিছু খাওয়ান”

এই ৩ ঘণ্টার untreated hypoglycemia রোগীর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেছেন নূরিয়া।

পরে মেডিকেল অফিসার এসে ডেক্সট্রোজ দেন বেলা ২:৩০–এ।

ভোর ৪টায় হ্যালোপেরিডল প্রয়োগ—কোনো মনিটরিং ছাড়াই

স্ট্রোক রোগীর ক্ষেত্রে হ্যালোপেরিডল ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু প্রয়োগের পর—

RBS মনিটরিং হয়নি

Oxygen saturation দেখা হয়নি

Consciousness চেক করা হয়নি

এতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয় বলে অভিযোগ।

শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ ভুল—অক্সিজেন না দিয়েই Suction

সিক্রেশন জমে গেলে পরিবার নার্সকে ডাকলে নার্সরা—

সেচুরেশন না দেখে

পাল্‌স অক্সিমিটার না লাগিয়ে

চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই

এয়ারওয়ে সুরক্ষা না করেই

সরাসরি সাকশন শুরু করে।

১০ সেকেন্ডের মধ্যেই রোগীর ঠোঁট নীল হয়ে যায়, অর্থাৎ আকস্মিক সায়ানোসিস।
এরপর অক্সিমিটার আনা হয়—কিন্তু তখন অনেক দেরি।

মৃত্যুসনদে Hypoglycemia লুকানোর অভিযোগ

মৃত্যুসনদে কোথাও hypoglycemia উল্লেখ করা হয়নি।
ডা. নূরিয়া বলেন—
“এটি তথ্য গোপন করার স্পষ্ট চেষ্টা।”

রোগীকে ক্যাথেটার লাগানো অবস্থাতেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়মবহির্ভূত।

হাসপাতালের প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া—ভুল স্বীকার, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেই

হাসপাতালের Assistant Director (Medical Services) ডা. ইশতিয়াক আমিন চৌধুরী নিজে ফাইল পরীক্ষা করে বলেন—

নার্স ডাক্তারকে জানায়নি

দুপুর ৩টার আগে কোনো ডেক্সট্রোজ অর্ডার ছিল না

ডাক্তারের পর্যবেক্ষণ ছিল অপর্যাপ্ত

চিকিৎসা প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়েছে

তিনি ভুল স্বীকার করে তদন্তের আশ্বাস দিলেও
হাসপাতাল এখনো পর্যন্ত কোনো নথি সরবরাহ করেনি
এবং পরিবারকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

হাইকোর্টে নূরিয়া জাহানের ৪ দফা আবেদন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এখন মহামান্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন—

১. গুরুতর ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার নিরপেক্ষ, স্বাধীন তদন্ত

২. দায়ী চিকিৎসক ডা. রাহাত আমিন ও সংশ্লিষ্ট নার্সদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও লাইসেন্স বাতিল

৩. ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এমন অবহেলার শিকার না হয়—সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও DGHS–এর কঠোর নজরদারি

৪. রোগীর ট্রিটমেন্ট শিট, RBS চার্ট, নার্সিং নোট এবং দায়িত্বরত স্টাফদের নাম—হাসপাতাল কেন withheld করেছে তার আইনি ব্যাখ্যা ও তথ্য সরবরাহের নির্দেশ

হাইকোর্টে উল্লেখযোগ্য আইনগত ভিত্তি (সুনির্দিষ্ট রেফারেন্সসহ)

(A) BMDC Code of Medical Ethics, 2012 – Sections 60–62

রোগী বা Next-of-Kin চিকিৎসা নথি পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখে।
হাসপাতাল কোনোভাবেই withheld করতে পারে না।

(B) DGHS – Hospital Management Manual

“Patient Rights” অংশ অনুযায়ী, রোগীর পরিবার চিকিৎসা নথি দেখতে ও কপি নিতে পারবেন।

(C) Right to Information Act, 2009 – Sections 8 & 13

রোগী সম্পর্কিত ব্যক্তিগত তথ্য withheld করা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য।

(D) World Medical Association (WMA) – 2022 Ethics Code

Patient বা family–কে medical records না দেওয়া—স্পষ্ট নৈতিক লঙ্ঘন।

পরিবারের আর্তি:

“আমাদের বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না—কিন্তু অন্তত ন্যায়বিচার আমাদের পাওয়া উচিত।”

সমাজের প্রশ্ন:
বাংলাদেশের কত পরিবার চিকিৎসা–অবহেলায় প্রিয়জন হারিয়ে চুপ করে থাকে?
আজ নূরিয়ার বাবা—
আগামীকাল যে কারো হতে পারে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd