• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার উদ্দাম ভরসা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুর

Reporter Name / ২০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

 

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার উদ্দাম ভরসা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুর

লেখক: মো: শোয়েব হোসেন–
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে সবচেয়ে বড় নাম এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রায় সব জেলার কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। গাজীপুর সদর উপজেলার বোর্ড বাজারে অবস্থিত প্রধান ক্যাম্পাস থেকেই পরিচালিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই অধিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে প্রায় দুই হাজার দুই শতাধিক কলেজ ও ইনস্টিটিউট, যেখানে তিন কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের কলেজগুলো—সব জায়গাতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা ও সার্টিফিকেটের আওতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে লাখো তরুণ-তরুণী।

শিক্ষার বিস্তারে ঐতিহাসিক ভূমিকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ছিল মূলত: উচ্চশিক্ষাকে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি বাস্তব প্রয়াস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বা চট্টগ্রামের মতো আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সীমিত সুযোগের কারণে যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো, তাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে আশার আলো।

এখন গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীও নিজের এলাকার কলেজ থেকে অনার্স, মাস্টার্স বা পেশাগত কোর্স শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করতে পারছে যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।

মানোন্নয়নে অবিরাম উদ্যোগ

শিক্ষার্থীর বিশাল সংখ্যা ও কলেজগুলোর ভৌগোলিক বিস্তার সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে মানোন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে,

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে কলেজ শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে,

নতুন পাঠ্যক্রম ও সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে এবং

গাজীপুরে গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ. এস. এম. আমানউল্লাহ সম্প্রতি বলেন, “আমরা শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। কলেজগুলোকে আমরা প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও মূল্যায়নের আওতায় আনছি।”

সাফল্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও আছে

যেহেতু এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় তাই একযোগে মান নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক কলেজে অবকাঠামো, ল্যাব ও শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। পরীক্ষার সময়সীমা ও ফল প্রকাশ নিয়েও প্রায়ই শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দেখা যায়।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলে ধাপে ধাপে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে। অনলাইন মনিটরিং, স্বীকৃতি নবায়ন, ওয়ার্কশপ এবং পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

জাতীয় উন্নয়নে অবদান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, দেশের সামাজিক উন্নয়নেও গভীর প্রভাব রেখেছে।

লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত তরুণ কর্মজীবনে প্রবেশ করে দেশের উৎপাদন ও প্রশাসনে ভূমিকা রাখছে।

নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কারণ স্থানীয় কলেজগুলোয় ভর্তি এখন সহজ।

কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্তও উন্মুক্ত হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে বাংলাদেশের “মানবসম্পদ বিকাশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান”, যা প্রতিনিয়ত নতুন শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করছে।

উপসংহার

গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আজ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভিত্তি। এত বড় প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করা সহজ নয়, তবুও এই বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ করছে—

  1. “গুণগত শিক্ষা সবার জন্য। কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই হতে পারে।”


More News Of This Category
bdit.com.bd