৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১০:০০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক:
বিচ্ছেদের এক অন্য রূপ: সাইলেন্ট ডিভোর্স বা নীরব বিচ্ছেদ
ঢাকা – সম্পর্কের জটিলতার এক অদৃশ্য রূপ এখন সামাজিক মনস্তত্ত্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। লেখক পারাচি খানের ফেসবুক পেজ “ভেরি ফাই”তে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, নীরব বিচ্ছেদ বা সাইলেন্ট ডিভোর্স এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তবে আইনত বা সামাজিকভাবে বিবাহিত থাকেন। একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও এ ধরনের সম্পর্কের মধ্যে আবেগিক সংযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া বা মনস্তাত্ত্বিক আদান-প্রদান থাকে না।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের লক্ষণসমূহ:
দৈনন্দিন কথোপকথন মূলত কার্যকরী সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; আবেগিক বা ব্যক্তিগত আলোচনা থাকে না।
একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি বা আগ্রহের অভাব লক্ষ্য করা যায়।
একসাথে সময় কাটানো এড়ানো এবং আলাদা রুটিন অনুসরণ।
শারীরিক ঘনিষ্ঠতা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ।
ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিতে ক্ষমা চাওয়ার বা বিষয় মিটমাট করার আগ্রহ নেই।
একসাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করা হয় না।
একে অপরের সফলতা বা ব্যর্থতায় আগ্রহের অভাব।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের প্রধান কারণ:
দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো সমস্যার সমাধান না হওয়া।
বিশ্বাস ভঙ্গ ও পুনঃস্থাপন কঠিন হওয়া।
আবেগিক চাহিদা পূরণের অভাব।
সন্তান লালন-পালন বা আর্থিক বিষয় নিয়ে মতবিরোধ।
অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা বা সম্পর্কের প্রতি সময় না দেওয়া।
অনুভূতি প্রকাশের অভাব বা একে অপরকে শোনার অস্বীকৃতি।
প্রভাব:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একাকীত্ব ও হতাশা।
সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক বিকাশে বাধা।
সামাজিকভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে শারীরিক অসুস্থতা।
প্রতিকার:
খোলাখুলি কথোপকথন ও অনুভূতির প্রকাশ।
বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া।
পুরোনো স্মৃতির পুনঃমূল্যায়ন এবং নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি বজায় রাখা।
মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া।
লেখক পারাচি খান উল্লেখ করেছেন, সাইলেন্ট ডিভোর্স সম্পর্কের একটি জটিল সমস্যা, যা সচেতন হলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। তবে যদি সম্পর্ক পুনরুদ্ধার সম্ভব না হয়, তবে বিচ্ছেদকে সুস্থ সমাধান হিসেবে গ্রহণ করাই যথাযথ।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com