১৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৫:০৬ PM (Asia/Dhaka)
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ — জনতার কণ্ঠস্বর
www.bangladeshprothomsangbad.com
কালিহাতীতে বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ: গ্রেফতার ইসমাইল, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি
রিপোর্টার: গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি — জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
যোগাযোগ: ০১৭১২৭২০৭৮৭
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক বাক প্রতিবন্ধী ১৮ বছরের কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ইসমাইল হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে র্যাব। মামলার পর থেকে পলাতক থাকা আসামিকে শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নাছির গ্রুপ কোম্পানি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল র্যাব-১২, সিপিসি-৩। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারান্দিয়া গ্রামের ওই কিশোরীকে গত মার্চ মাসে একাধিকবার ধর্ষণ করে ইসমাইল। ভয়ে কিশোরী আর কাউকে এ ঘটনা জানাতে পারেনি; পরে পরিবারের সন্দেহ ও মেয়েটির লিখে ও ইশারায় দেওয়া বিবরণে ঘটনা সামনে আসে। ভুক্তভোগীর বাবা সংবাদদলকে জানিয়েছেন — “আমাদের বোবা মেয়েটি এসএসসি পাস করেছে, বড় হয়ে কিছু করার স্বপ্ন ছিল। ইসমাইল সেই স্বপ্ন ও আমাদের সম্মান দুটোই কেড়ে নিয়েছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
কালিহাতী থানায় বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের পর মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম হিসেবে ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা এবং আদালতে জবানবন্দির ব্যবস্থা করা হয়েছে — এসব তথ্য জানিয়েছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্থানীয় সমাজ, সহপাঠী ও সামাজিক সংগঠনগুলো দোষীর দৃশ্যমান ও কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কালিহাতী উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক নীরু ব্যানার্জি ও সদস্য সচিব মানিক ভট্টাচার্য বলেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়—আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।” বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কালিহাতী শাখার সভাপতি শাহ আলমও বলেন, “একজন প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রতি এমন পাশবিক আচরণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আমরা চাই, এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হোক এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতা গৌরাঙ্গ বিশ্বাস গ্রেফতারের সংবাদে সন্তোষ প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন, “অবশেষে আইন তার নিজ গতিতে কাজ করছে—আমরা আশা করি দ্রুতই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।” গ্রেফতারের খবরে নারান্দিয়া এলাকায় স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে; স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন — ন্যায়বিচার পেলে সমাজে শান্তি ফিরবে, যেন আর কোনো মেয়ে এমন নির্যাতনের শিকার না হয়।
আইনি পর্যায় থেকে আমরা লক্ষ্য রাখছি: মামলা রেকর্ড, মেডিকেল রিপোর্ট এবং কোর্টে জবানবন্দি—এই তিনটিই নির্ধারণী হবে। কিশোরী ও পরিবারের দাবি ও স্থানীয় নেতাদের চাপে প্রশাসন ও প্রসিকিউশনকে দ্রুততার সঙ্গে সর্বোচ্চ শাস্তি চাইতে নির্দেশ দেয়া উচিত; একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই মামলাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে takip করব এবং আদালতীয় প্রক্রিয়ার যেকোনো আপডেট প্রকাশ করব।
শেষে — পুনঃবিবৃতি: ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে; অভিযুক্ত এখন গ্রেফতার। দুর্বল ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি এই ধরনের অপরাধ অনুত্তরযোগ্য — ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে সতর্কতা ও শান্তি ফিরে আসবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক — www.bangladeshprothomsangbad.com