ছাত্রীদের জিম্মি ও ভুয়া কাবিননামা সিন্ডিকেটের হোতা সামছুল হকের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলা মো: সামছুল হককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া কাবিননামা তৈরি এবং ছাত্রীদের জিম্মি করে জীবন ধ্বংস করার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
অসংখ্য ছাত্রীর জীবন ধ্বংসের কারিগর
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সামছুল হক তোপখানা রোডের একটি কাজী অফিসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। তিনি সাধারণ ছাত্রীদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং তাদের জিম্মি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভুয়া কাবিননামায় স্বাক্ষর নিতেন। এভাবে তিনি অসংখ্য ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধ
মো: সামছুল হক নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামালীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চরম দুর্নীতি, দলবাজি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি তিনি ভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার চর হিসেবেও কাজ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
খন্দকার মুশতাকের সহযোগী
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত খন্দকার মুশতাক আহম্মেদের সাত থেকে আটটি বিয়ের নেপথ্যে ছিল এই সামছুল হকের জালিয়াত চক্র। ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার অফিসের রেজিস্টার বা বালাম বহি যাচাই করলে এসব ভুয়া বিয়ের প্রমাণ পাওয়া সম্ভব।
আইনি অবস্থান ও প্রশাসনের নিকট দাবি
বর্তমানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শাহবাগ থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের জোর দাবি— অনতিবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তার পরিচালিত ভুয়া কাজী অফিসের সকল নথি জব্দ করে তদন্ত করলে আরও লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই জঘন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করবে— এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।