তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৫, সময়: দুপুর ১:৪৫
ডেস্ক: জনতার কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ৬ আগস্ট ২০২৫ গুলশানের চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে আজ গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয় দেখছে বাংলাদেশ। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে মানুষ ফিরে পেয়েছে তার ভোটাধিকার, গণতন্ত্রের আশা, ও রাষ্ট্র রচনার নতুন অধ্যায়।”

মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা সরকার তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে একদলীয় দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত দলীয় করণে দখল করে দেশে এক ভয়াবহ মাফিয়া শাসন কায়েম করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, “অর্থনীতি লুট হয়েছে, টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটে নিয়েছে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে ক্যাম্পাসকে রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে।” এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু থেকেই এই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের সাজা দিয়ে ৬ বছর আটকে রাখা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনেক নেতাকে আজীবন সাজা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়, অনেকে জেলে মারা যান।” অথচ এই সব দমন-পীড়নের মধ্যেও বিএনপি পিছু হটে না।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থানেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এর ফলে দেশের মানুষ এক নতুন গণতান্ত্রিক দিগন্তে প্রবেশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান প্রফেসর ড. ইউনুসের নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের সূচনা হয়।
গতকাল ৫ আগস্ট ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর প্রতি বিএনপি’র পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মহাসচিব বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলসমূহ একটি নতুন গণতান্ত্রিক, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা দিয়েছে। তিনি জানান, “বিএনপি আশা করে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের জনগণ সাম্যভিত্তিক উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পাবে।”
লন্ডনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের মধ্যে বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য নির্বাচনকাল হিসেবে নির্ধারণের ঘোষণাকে স্বাগত জানান মহাসচিব। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সক্রিয় ও কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনের পথ সুগম হবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি প্রত্যাশা করে এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সর্বজনগ্রাহ্য করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আহতদের প্রতি সহানুভূতি ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার স্বপ্ন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আজীবনের সংগ্রাম ও তারেক রহমানের আধুনিক, মানবিক নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।