প্রবাসী রেমিট্যান্সে রাষ্ট্রের শ্বাস-প্রশ্বাস — প্রতারক চক্রের ফাঁদে বাঁচার উপায় জানালেন তারেক রহমান
২ আগস্ট ২০২৫ | ঢাকা
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলেও, এই জনগোষ্ঠী প্রতিদিন প্রতারণা, হয়রানি ও অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমজনতা পাটির’ অভিভাবক তারেক রহমান। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের বৈদেশিক রিজার্ভের বড় অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার থেকেই, অথচ তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর কোনো কাঠামো দেশে বা বিদেশে নেই।
“প্রবাসীর রেমিট্যান্স দেশের অক্সিজেন”— বললেন তারেক রহমান
তারেক রহমান বলেন, “ভোজ্যতেল, তুলা বা প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে আমাদের ডলার লাগে—এই ডলারটিই পাঠান প্রবাসীরা। সরকার সেই ডলার রেখে তাদের পরিবারের কাছে দেয় কিছু লোকাল মুদ্রা। অর্থাৎ রেমিট্যান্স দেশের জন্য শুধুই পরিবারের ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের অর্থনীতির শ্বাস-প্রশ্বাস।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অনেকে বলে, প্রবাসীরা তাদের পরিবারের জন্য টাকা পাঠায়, দেশের জন্য না। কিন্তু এই ধারণা যে কত বড় মূর্খতা, তা বোঝা যায় না বলেই দেশের প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কেউ কাজ করে না।”
বিক্রমপুর অভিযানের স্মৃতি: ৭০ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট উদ্ধার
তারেক রহমান জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি বিক্রমপুরে এক প্রতারক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে উদ্ধার হয় ১৯ জন প্রবাসীর পাসপোর্ট ও প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তার দাবি, থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, পরে ডিবিতে অভিযোগ করে নিজ উদ্যোগেই উদ্ধারকাজ চালাতে হয়।
এই ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন শত শত প্রবাসী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ তাদের জন্য কিছু পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে প্রতারণার শিকার না হন।”
—
প্রতারিত হলে করণীয় (তারেক রহমানের পরামর্শ):
১. প্রথমে থানায় মামলা করুন। মামলা না নিলে আদালতে যান।
২. সাথে সাথে কাকরাইলের বিএমইটি অফিসেও অভিযোগ করুন।
৩. রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটানোর আগে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যান—তাতে প্রশাসনিক সহযোগিতা সহজ হয়।
—
প্রতারণা এড়ানোর উপায়:
১. ‘আর এল’ (RL) নাম্বারবিহীন কোনো রিক্রুটিং এজেন্সিকে টাকা দেবেন না।
২. ক্যাশ নয়, কোম্পানির নামে ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠান। রিসিট অবশ্যই কোম্পানির প্যাডে নিন।
3. যে ব্যক্তি টাকা নিচ্ছে তার ছবি বা একটি ছোট ভিডিও তুলে রাখুন।
তারেক রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আত্মীয়, স্বজন বা দূর সম্পর্কের লোক বলে শিথিল হলে আপনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
—
প্রবাসীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা কাঠামোর অভাব
তারেক রহমান বলেন, “দেশে হোক বা বিদেশে—প্রবাসীদের নিয়ে কেউ ভাবেনি। তারা অসুস্থ হলে বিদেশে সেবা পায় না, আবার দেশে থাকা পরিবার বিপদে পড়লে তাতেও গুরুত্ব পায় না।”
তিনি অভিযোগ করেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা যেন রাষ্ট্রের ডলার মেশিনে পরিণত হয়েছে—শুধু উপার্জন করে পাঠাবে, কিন্তু বিপদে কোনো সহানুভূতি পাবে না।
বর্তমানে বাংলাদেশে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, তবে অর্ধেকেরও বেশি ভুয়া বা লাইসেন্সবিহীন চক্রের মাধ্যমে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের ব্যর্থ তদারকি এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণেই প্রতারকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে।