নারীরাই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রথম সৈনিক — তারেক রহমানের ঘোষণা: “আমার মা-বোনদের ছাড়া কোনো যুদ্ধই জয়ী হতে পারে না”
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক | জনতার কণ্ঠস্বর | ৩১ জুলাই ২০২৫
আজ ৩১ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার — বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী আলোচনা সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে সরাসরি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক আলোচনা সভার পুরো বক্তব্য তিনি নিজেই দিয়েছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি লাইভে সম্প্রচার করে।
তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে এক গভীর ভালোবাসা, সম্মান ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা—বিশেষ করে দেশের নারীদের প্রতি। তিনি বলেন:
> “এই নারীরাই ছিলেন ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম কণ্ঠ। যখন রাজপথে পুরুষ নেতৃত্বকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তখন এই মায়েরাই, এই বোনেরাই বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। নারীরা না থাকলে এই যুদ্ধ, বা কোনো যুদ্ধই কখনও জয়ী হতে পারে না।”
তারেক রহমান সরাসরি বলেন, নারীরা শুধুমাত্র মা, বোন বা সহযাত্রী নন—তাঁর কাছে এঁরাই জাতির বিবেক, সংগ্রামের প্রেরণা।
তিনি আরও বলেন:
> “আমার মা ছিলেন আন্দোলনের নেত্রী। আমার স্ত্রী ছিল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নীরব সাহস। আমার কন্যা জাইমা হচ্ছে ভবিষ্যতের প্রতীক। আর এই নারীদের ত্যাগ ও লড়াইয়ের কথা না বললে ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”
এই দিনে তারেক রহমান জুলাই মাসে শহীদ হওয়া নারী নেত্রী ও কর্মীদের স্মরণে তাদের মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান, এবং বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
> “জুলাইয়ের শহীদদের মা-বোনেরা শুধু সন্তান বা স্বামী হারিয়েই থেমে যাননি। তাঁরা রক্তের ঋণকে শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। এই পরিবারগুলোর পাশে বিএনপি ছিল, আছে, থাকবে।”
আজকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারী নেত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে ‘স্মারক কার্ড’—প্রতীক হিসেবে তাঁদের অবদানের। এই কার্ডের মাধ্যমে নারী সংগ্রামীদের এবং বিশেষ করে শহীদ পরিবারগুলোকে জানানো হয় সম্মান ও ভালবাসা।
তারেক রহমান আজ স্পষ্ট উচ্চারণে বলেন, বিএনপি-ই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ। তিনিই মনে করিয়ে দেন যে—
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি-র উপহার।
দেশের প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রীও বিএনপির হাত ধরেই উঠে এসেছেন।
নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রস্থানে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিএনপি-র অবস্থান চিরকালই স্পষ্ট ও অনমনীয়।
তিনি বলেন:
> “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদায় বাঁচবে। আমরা নারীদের চোখে পানি দেখতে চাই না। যে রাজনীতি নারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে, সেটা গণতন্ত্র নয়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রীবৃন্দ, সংগঠনের জেলা প্রতিনিধিরা এবং শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যরা। সভা ছিল প্রেরণার, ভালোবাসার এবং প্রতিজ্ঞার প্রতীক।
আজকের তারেক রহমানের এই ভাষণ শুধু একটি বক্তব্য নয়—এটি ছিল একটি রাজনৈতিক দর্শন, একটি নৈতিক শপথ, একটি ইতিহাসের পুনরুল্লেখ। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বাংলাদেশে নারীর লড়াই, সম্মান ও বিজয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর তিনি নিজেই।