গণহত্যার পরে নির্লজ্জ লাইভে হাসিনা, মাথার উপর ভারতের পতাকা দেখে বিস্মিত জনতা
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক :
৩১ জুলাই ২০২৫
আজ বিকাল ৫টায় ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটানা বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান সকল অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তবে এই লাইভ সম্প্রচারে একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে—স্ক্রিনে শেখ হাসিনার মাথার ঠিক ওপরে ভারতের জাতীয় পতাকার প্রতিচ্ছবি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।
অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি কেবল একটি কাকতালীয় প্রতিচ্ছবি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত বার্তা? শেখ হাসিনা কি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন? কিংবা তিনি কি ভারতের সরাসরি প্রশ্রয়ে থেকে বাংলাদেশি জনগণকে মিথ্যা বার্তা দিতে চাচ্ছেন?
এমন প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষোভমিশ্রিত ও বিস্ময়কর। বহুজন বলছেন, গণহত্যা, গুম, দমন-পীড়ন, ভোটাধিকার হরণ এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করার পর আজকের এই লাইভ যেন ইতিহাসের রক্তাক্ত পৃষ্ঠায় আরেকটি পরিহাস।
শুধু একটি ফেসবুক লাইভ নয়—এই ঘটনার মূলে অনেক গভীর রাজনৈতিক বাস্তবতা লুকিয়ে রয়েছে। গত দেড় দশকে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে অসংখ্য, কিন্তু জনস্বার্থে সুফল পেয়েছে খুব কম মানুষই। তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে, সীমান্তে গুলিতে মরছে বাংলাদেশিরা, অথচ ভারতীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাজার ও সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদদের বরাতে জানা যায়, শুধুমাত্র অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাত ঘিরে ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় গত এক যুগে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি পাচার হয়েছে। এতে লাভবান হয়েছে উভয় দেশের কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, যারা কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার ঘাটতির শিকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের জন্য হাসিনা সরকার একটি ‘পলিটিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট’—কারণ তাঁর শাসনে বাংলাদেশে ভারতপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি বৈধতা পেয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক মহলে শেখ হাসিনার প্রতি রয়েছে একটি অস্বাভাবিক মাত্রার আস্থা ও ‘বিকল্পহীনতা’, যা গণআন্দোলনের বিরুদ্ধে ভারতের নীরব সমর্থনকে সম্ভব করে তোলে।
এ কারণে আজকের লাইভে ভারতের পতাকার ছায়ায় দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং প্রতীকী ব্যঞ্জনাও বহন করে। এটি জনমনে এমন এক প্রশ্ন তুলেছে, যা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষোভ নয়—বরং জাতীয় আত্মপরিচয় ও সার্বভৌমত্বের কেন্দ্রেও আঘাত হানে।
জনগণের একটি বড় অংশ আজ জিজ্ঞাসা করছে—একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা ‘নিরাপদ’ হলে, বিদেশি রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের দেশকে দমন করার ইতিহাস অস্বীকার করতে পারেন? কেন ভারত এত দৃঢ়ভাবে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে—এটা কি আঞ্চলিক বন্ধুত্ব, নাকি সীমান্তের ওপারে বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে করায়ত্ত করার প্রকল্প?
এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু বিরোধী রাজনীতির অংশ নয়—এগুলো জাতীয় আত্মসমালোচনার বেদনা হয়ে উঠছে। কারণ হাসিনা হয়তো ভারতের কাছে নিরাপদ, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য আর নয়—এই উপলব্ধি এখন দেশের অলিগলিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
তবে একটা কথা সত্যিই অনুভব হচ্ছে যেটা,প্রকাশ্য মহলে আলোচনা হচ্ছে, খুব দ্রুতই ভারত সরকারের হাতেই আজীবন গ্রেফতার হতে পারে হাসিনা।