নাহিদের নতস্বীকার, অন্তর্বর্তী সরকারের ভয়াবহ ব্যর্থতা প্রমাণিত
সামরিক ষড়যন্ত্র, শিবিরের মিথ্যাচার ও ছাত্র নেতৃত্বের দুরদর্শিতা – বিএনপির নীতিনিষ্ঠ অবস্থানই এখন একমাত্র পথ
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
জনতার কণ্ঠস্বর
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, শিবির সংশ্লিষ্টতা ও সেনাবাহিনীর ক্যু পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মুখোশ একে একে খুলে যাচ্ছে। সেই প্রচারের অন্যতম মুখপাত্র এনসিপির মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম নিজেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দেহতত্ত্ব’ই সত্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রক্রিয়াটি ছিল মারাত্মক ভুল।
এই স্বীকারোক্তি শুধু কোনো ব্যক্তিগত মত নয়— এটি সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান পরবর্তী ছাত্র রাজনীতি ও জাতীয় সরকার বিতর্কে একটি রাজনৈতিক জলবিভাজিকা, যা বোঝায়, বিএনপির দূরদর্শী নীতিকেই ইতিহাস শেষপর্যন্ত সঠিক প্রমাণ করেছে।
—
❝জাতীয় সরকার প্রস্তাব ছাত্রদের নয়❞—ফখরুলের বক্তব্য সত্য প্রমাণিত
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার গঠনের কোনো প্রস্তাব বিএনপিকে দেওয়া হয়নি—তারা এই ধারণা পান অন্য একটি মাধ্যমে। এই বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। তবে এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে, ৫ আগস্ট রাতে ছাত্রদের প্রেস ব্রিফিংয়ে যেটি বলা হয়েছিল তা ছিল একটি পক্ষের unilateral ঘোষণা, যা কোনোভাবেই বিএনপির সাথে পূর্ণ সমন্বয় করে হয়নি।
পরবর্তী ভার্চুয়াল বৈঠকে ছাত্র পক্ষ থেকে ‘জাতীয় সরকার ও নতুন সংবিধান’ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, কিন্তু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, বরং নাগরিক সমাজ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরামর্শ দেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব দেয় ছাত্র পক্ষ, কিন্তু তা নিয়েও বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
৭ আগস্ট সকালে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে ছাত্র নেতৃত্ব নিজেদের প্রস্তাব পুনরায় তুলে ধরলেও বিএনপি দৃঢ়ভাবে জনগণের শক্তি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই উত্তরণের পথে এগোনোর নীতি বজায় রাখে। আজ নাহিদের মত বদল, ফেসবুকে তার ভোলবদলের পোস্ট, এই সিদ্ধান্তের সঠিকতা আবারও প্রমাণ করে।
—
শিবিরের মিথ্যাচার ও নকল পরিচয় : সাদিক কায়েমদের কাহিনি ফাঁস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক নেতা সাদিক কায়েম টকশোতে দাবি করেন, ছাত্রশক্তির গঠনে শিবিরের ভূমিকা ছিল এবং আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা শিবিরের নির্দেশে কাজ করতেন। এই দাবি যে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবির লোভে নির্মিত, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তুলে ধরেছেন মূল আন্দোলনের নেতারা।
ছাত্রশক্তি গঠিত হয়েছিল ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র, ঢাবির একটি পদত্যাগী অংশ এবং জাবির একটি স্টাডি সার্কেলের সমন্বয়ে, দীর্ঘকাল ধরে বিকল্প ছাত্র রাজনীতির চিন্তার ভিত গড়ে। শিবিরের সাথে যোগাযোগ থাকলেও, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা ছিল একেবারেই বাইরে।
সাদিক কায়েম কখনোই আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন না, বরং শুধু ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে শিবিরের অংশগ্রহণের কারণে তাকে প্রেস ব্রিফিংয়ে বসানো হয়েছিল। এরপর তিনি নিজেই নিজেকে ‘সমন্বয়ক’ ঘোষণা করে একটি পক্ষের হয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাতে শুরু করেন, যেখানে অভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্ব দাবি করা হয় শিবিরের। এই দাবিকে ছাত্রনেতারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন, এবং বলেছেন, “যেখানে সকল পক্ষের সাথে আমাদের সংলাপ ছিল, সেখানে শিবির একক নেতৃত্ব দাবি করতে পারে না।”
—
সেনা ক্যু পরিকল্পনা ও ছাত্রনেতাদের প্রতিরোধ: সায়েরদের ষড়যন্ত্র
২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন সায়ের ও তার অনুসারীরা সেনাবাহিনীর একাংশের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের ষড়যন্ত্র করেন। কথিত ‘সেইফ হাউজ’-এ থাকা ছাত্র নেতাদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয় যেন তারা ‘সরকার পতনের একদফা’ ঘোষণা দেন এবং মূল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সকল যোগাযোগ ছিন্ন করেন।
এই চাপ ও হুমকির মুখেও ছাত্রনেতারা অটল থাকেন নীতিগত অবস্থানে— সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের কোনো পথ নেই, কারণ সেটা ১/১১ পুনরাবৃত্তি তৈরি করবে এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে। তারা একদফার ঘোষণা মাঠ থেকে, জনগণের মুখ থেকে দিতে চেয়েছিলেন। এবং পরদিন ৫ আগস্ট থেকে ছাত্রসমন্বয়করা এই অবস্থানেই অটল থেকেছেন।
—
বিভ্রান্তি, চরিত্রহনন ও সত্যের বিজয়
৫ আগস্টের পর থেকে সায়ের গং লাগাতার চেষ্টা করেছে ছাত্রসমন্বয়কদের বিরুদ্ধে পাল্টা নেতৃত্ব দাঁড় করাতে। এর জন্য সাদিক কায়েমদের ব্যবহার করেছে এবং তারা ব্যবহৃত হয়েছে। ফাঁসকৃত কল রেকর্ড, সার্ভেইলেন্স, চরিত্রহনন, অপপ্রচার, মিথ্যা পোস্ট— কোনো অস্ত্রই ব্যবহার করা বাদ রাখেনি তারা।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিথ্যা ভেঙে পড়েছে নিজেদের ওজনে। এনসিপি মুখপাত্র নাহিদ ইসলামের ভোলবদল, মির্জা ফখরুল ও তারেক রহমানের নীতিনিষ্ঠতা প্রমাণ করে কে মিথ্যা বলেছিল, আর কে আদর্শে অটল ছিল।
—
বিএনপি—নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, বিএনপির নেতৃত্ব ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতাদর্শিক দিকনির্দেশনা ছিল সঠিক ও সময়োপযোগী। কোথাও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, কোথাও ক্ষমতা লিপ্সা নয়— বিএনপি একমাত্র দল যারা জনগণের স্বার্থ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ কাঠামো ও বৈপ্লবিক প্রক্রিয়াকে মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে এগোতে চায়।
নাহিদের নতজানু স্বীকারোক্তি, শিবির ও সায়ের গংদের ষড়যন্ত্র এবং সত্যের সামনে ভেঙে পড়া মিথ্যাগুলো প্রমাণ করে— ইতিহাসের বাঁকে বিএনপিই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভিভাবক শক্তি।