এদেরকে ধরিয়ে দিন গ্রাহকের ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এলাকা ছাড়া বুশরা ও এম. আর বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যানরা!
সাতক্ষীরায় ‘ইসলামী’ মাল্টিপারপাস ব্যবসার নামে নজিরবিহীন প্রতারণা চক্র!
হাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে হাজার হাজার গ্রাহকের সঞ্চিত ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কথিত ইসলামী মাল্টিপারপাস কোম্পানি “বুশরা কো-অপারেটিভ সোসাইটি” ও “এম. আর. বিজনেস গ্রুপ”-এর বিরুদ্ধে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ইকবাল কবির পলাশ এবং শেখ শরিফুল ইসলাম এখন এলাকা ছাড়া — কোথায় আছেন, কেউ জানে না।
২০০২ সাল থেকে কালিগঞ্জের ফুলতলা থেকে যাত্রা শুরু করে কথিত ‘বুশরা সমবায় সমিতি’। নিবন্ধন ছাড়াই “ইসলামী বিনিয়োগ” আর “মাসিক মুনাফা”র লোভনীয় অফারে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে। লাখ টাকায় প্রতিমাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মুনাফা — এই প্রতিশ্রুতি গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল দিনমজুর, কৃষক, প্রবাসী, চাকরিজীবীদের মোহিত করে তোলে। জমি বিক্রি, পেনশনের টাকা, ব্যাংকের সঞ্চয় — সবই গচ্ছিত হয় কথিত ইসলামী কোম্পানির ভাণ্ডারে।
২০০৯ সালে একটি নামমাত্র নিবন্ধন নিলেও, সমবায় আইনের কোন বিধি মানেনি প্রতিষ্ঠান দুটি। নতুন করে এম. আর পরিবহন নাম দিয়ে ভিন্ন এক প্ল্যাটফর্ম গড়ে আরও বেশি লোক ঠকানোর ফাঁদ পাতে। “বুশরা” আর “এম. আর বিজনেস গ্রুপ”-এর চোখধাঁধানো অফিস খুলে প্রতিটি থানা এলাকায় কার্যক্রম চালায় তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু কালিগঞ্জ উপজেলার একাধিক গ্রামেই কয়েক কোটি টাকার আমানত গ্রাস করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
রহমত: ৬.৫ লাখ টাকা
স্বপন: ৮০ লাখ টাকা
জাহাঙ্গীর: ৬ লাখ টাকা
হাকিম: ৫ লাখ টাকা
শফিকুল ইসলাম শফি: ১৫ লাখ টাকা
মুজিব: ৫০ লাখ টাকা
মিজান: ২২ লাখ টাকা
আমিন: ১৭ লাখ টাকা
রশিদ: ৪ লাখ টাকা
উদ্ভব চন্দ্র: ৪ লাখ টাকা
শহিদুল: ৮ লাখ টাকা
এইরকম হাজার হাজার আমানতকারীর পয়সা লুটপাট করে খুলনা ও সাতক্ষীরায় জমি, ফ্ল্যাট, পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ওই চক্র। শুরুতে প্রতি লাখে সাড়ে ৩ হাজার, পরে তা কমিয়ে ১৫শ-১২শ টাকা করলেও, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দেশত্যাগের পর থেকেই কার্যত প্রতিষ্ঠান দু’টি বন্ধ — অফিস খোলা থাকলেও কেউ নেই, মুনাফা তো দূরের কথা, আসল টাকাও ফেরত নেই।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কয়েকবার অফিস আটকে এম. আর পরিবহনের গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে লাভ হয়নি কিছুই। মোবাইলে ফোন করেও পাচ্ছেন না কাউকে — ইকবাল কবির পলাশ (০১৩১৮৩৩৮০৮০) ও শরিফুল ইসলাম (০১৭১৫১৩৩৭৫১) ফোন ধরছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, সমবায় বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা। কালিগঞ্জ উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা আকরাম হোসেন একদিকে বলেন ‘অডিট হয়েছে ঠিকমত’, আবার অন্যদিকে কোনো হিসাব দেখাতে পারেন না।
এদিকে বহু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সেনা ক্যাম্প, থানা এবং বিভিন্ন দপ্তরে — কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাতক্ষীরার জনগণ একে দেখছেন “আরডিপি ও বর্ষা এনজিও কেলেঙ্কারি”র পুনরাবৃত্তি হিসেবে।
প্রশ্ন উঠছে—
এই মেগা প্রতারণার নেপথ্যে কারা ছিল? প্রশাসন, সমবায় বিভাগ নাকি রাজনৈতিক ছত্রছায়া?
এদের গ্রেফতার এবং টাকা ফেরতের উদ্যোগ কে নেবে?
আর গ্রাহকের টাকা যদি হারিয়েই যায়, তাহলে আইন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ নয় কি?
এই রিপোর্ট ‘ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ’-এর অনুসন্ধানে প্রকাশিত। ভবিষ্যতে আরো তথ্য ও আইনি অগ্রগতির আপডেট জানানো হবে।