• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

রাজনীতিতে গতিপথ যত দীর্ঘই হোক, শেষ বাঁকটি সব সময়ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নরেন্দ্র মোদির একটানা শাসনের নতুন রেকর্ড: ইন্দিরা গান্ধীকে ছাড়িয়ে ইতিহাসে স্থান, কিন্তু ভবিষ্যত কী বলছে?

Reporter Name / ১৫৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫

 

নরেন্দ্র মোদির একটানা শাসনের নতুন রেকর্ড: ইন্দিরা গান্ধীকে ছাড়িয়ে ইতিহাসে স্থান, কিন্তু ভবিষ্যত কী বলছে?

ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | ২৫ জুলাই ২০২৫

আজ, ২৫ জুলাই ২০২৫—এই দিনে ভারতের ইতিহাসে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচিত হলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটানা ৪,০৭৮ দিন ক্ষমতায় থেকে ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড ভেঙে ফেললেন।

ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত টানা ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আজ মোদির প্রধানমন্ত্রীত্বের সেই সংখ্যা পেরিয়ে গেছে। বিজেপি এবং বিশেষ করে তাদের পশ্চিমবঙ্গ ইউনিট এই রেকর্ড উদযাপন করছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে।

অমিতাভ চক্রবর্তী নামক এক বিজেপি কর্মী সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত পরিসংখ্যানসহ এই রেকর্ডের দিক নির্দেশ করেছেন।

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে কি দেখা যায়?

ইন্দিরা গান্ধী যখন একটানা এতদিন ক্ষমতায় ছিলেন, সেই মেয়াদের শেষ প্রান্তেই এসেছিল “অঘোষিত জরুরি অবস্থা”, গণতন্ত্রে রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ, সংবাদপত্রে সেন্সর, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দমনপীড়ন—যার ফলে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে তিনি চরমভাবে পরাজিত হন।

আজকের ভারতেও সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—মোদি সরকারের শাসনেও কি একই স্বেচ্ছাচারী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে? বিরোধীদের দমন, বিচার ব্যবস্থার বিতর্কিত ভূমিকা, এবং মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ক্রমাগত উচ্চারিত হচ্ছে।

মোদির বর্তমান শাসনের অবস্থা

২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসা মোদি ২০১৯ সালে আবারও বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী হন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে জোটের উপর নির্ভরশীল হলেও, মোদি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রিত্ব বজায় রাখেন।

দেশের অভ্যন্তরে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলমান।

ভারতের আন্তর্জাতিক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে চিরাচরিত মিত্রতা এখন ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে।

তাহলে মোদির শেষ পরিণতি কী হতে পারে?

একজন নেতা যত দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকেন, ততই তার ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি তৈরি হয়। কিন্তু ইতিহাস বলে, ক্ষমতা যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক না কেন, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বা জনরোষই শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে।

ইন্দিরা গান্ধীর পতন যেমন এসেছিল হঠাৎ করেই, মোদির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক অঘটনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

২০২৯ সালের নির্বাচনের দিকেই মোদির দৃষ্টি, কিন্তু ND Alliance-এর অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, নাগরিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক চাপ হয়ত ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলবে।

অনেকে আশঙ্কা করছেন—মোদি তাঁর তৃতীয় মেয়াদের শেষপ্রান্তে এসে ইন্দিরার মতোই জনপ্রিয়তা হারিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ হতে পারেন, বিশেষ করে যদি মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে বিরোধীরা শক্তিশালী হয়।

রেকর্ড গঠনের চেয়ে রেকর্ডের পরিণতি গুরুত্বপূর্ণ

ক্ষমতায় থাকা সময়ের দৈর্ঘ্য অনেক কিছু নির্দেশ করে, কিন্তু শেষ দৃশ্যই একজন নেতার মর্যাদাকে চূড়ান্তভাবে সংজ্ঞায়িত করে। মোদি কি “সবার আগে ভারত” দর্শনের নামে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী চরিত্র হয়ে উঠছেন? নাকি ইতিহাস তাঁকে সফল রূপান্তরকারী নেতা হিসেবে মনে রাখবে?

তা সময়ই বলবে।

প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরূপে একটি বিশ্লেষণধর্মী ও ঐতিহাসিক তুলনা ভিত্তিক উপস্থাপন। রাজনীতিতে গতিপথ যত দীর্ঘই হোক, শেষ বাঁকটি সব সময়ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

– ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ


More News Of This Category
bdit.com.bd