বেনাপোলে ৩০ লাখ টাকার যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার, চোরাচালানিরা অধরাই
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক | ২৫ জুলাই ২০২৫
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আবারও সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের অপতৎপরতা ফাঁস হয়েছে। এবার সীমান্তে উদ্ধার হয়েছে ৯ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বেনাপোলের বড় আঁচড়া বটতলা পাকা রাস্তায় অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকীর নির্দেশে একটি টহলদল মাঠে নামে। হাবিলদার মো. মামুনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে দলটি নির্জন এলাকায় ফেলে রাখা একটি প্যাকেট থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করে।
তবে অভিযান চলাকালে চোরাচালানিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তেই গড়ে উঠছে মাদক সাম্রাজ্য
বেনাপোল সীমান্ত এখন দেশের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত—যেখানে অবৈধভাবে ভারতে তৈরি যৌন উত্তেজক ওষুধ প্রবেশ করছে এবং স্থানীয় বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এধরনের ওষুধের বেশিরভাগেই অস্বীকৃত রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশ্ন
বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি করা হলেও একের পর এক চোরাচালান সফলভাবে ঘটছে—তাও আবার একই রুট ধরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এই চক্র বহুদিন ধরে সক্রিয়।
ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা
অভিযানে প্রায়ই বলা হয় “চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেছে”। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই পণ্যগুলো আসে কোথা থেকে, কারা এর পেছনে? স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করার মতো বিশাল একটি চেইন কিভাবে গড়ে উঠল, সেটা নিয়ে তদন্ত নেই বললেই চলে।
জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে
শুধু সীমান্ত সুরক্ষা নয়, এই ধরনের পণ্যের বিস্তার জনস্বাস্থ্য, তরুণ সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। একদিকে মাদকসংশ্লিষ্টতা বাড়ছে, অন্যদিকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে স্বাস্থ্য পণ্যবাজারে।
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের আহ্বান:
সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে
যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে পুরো চেইন শনাক্ত ও গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে
জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক প্রচার চালানো প্রয়োজন।