মোঃ মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল | জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় শ্রমজীবী এক আলিম পরীক্ষার্থী দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কালাই পৌর এলাকার তালুকদার অটোরাইচ মিলে কাজ করার সময় তুষের ভাপারে পা পিছলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ১৯ বছর বয়সী আতিকুর রহমান নাসিমের।
নিহত নাসিম সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি গ্রামের দিনমজুর হজবর আলীর ছেলে। তিনি কড়ই নুরুল হুদা আলিয়া মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন তিনি। তবে সংসারের অভাব-অনটনে তাকে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে মিলের কাজও করতে হতো।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, নাসিম বুধবার সকালেও রুটিনমতো কাজে যোগ দেন। দুপুরের দিকে মিলের ভাপারের গেট খুলতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান তিনি। সহকর্মীরা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফায়েল হাসান জানান, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিবার চাইলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আতিকুর রহমান নাসিম ছিলেন পরিবারের আশা। লেখাপড়ার পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণের জীবন যে ভাবে শেষ হলো, তা শুধু তাঁর পরিবারের নয়—সমাজেরও ক্ষতি।
পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা কোনো অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে তাঁরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অটোরাইচ মিলের মালিকপক্ষ এই ঘটনায় দায় এড়িয়ে যাবেন না। নাসিমের পড়াশোনা, মৃত্যুজনিত খরচ ও পরিবারের পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে—এটাই তাঁদের আকুতি।
এই দুর্ঘটনা প্রশ্ন তোলে—একজন শিক্ষার্থী কেন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত হবেন? কেন মিল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না? এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি সিস্টেমিক ব্যর্থতা।
অটোরাইচ মিল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান থাকবে—আতিকুর রহমান নাসিমের পরিবারের প্রতি একটি মানবিক সহযোগিতা প্রদান করুন। তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য একটি স্থায়ী তহবিল বা দায়িত্ব নিন।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নাসিমের মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে—তার গল্প হোক সচেতনতার প্রতীক।