চার বছর দুই মাসের বকেয়া ভরণপোষণ ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা; এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
খাতাকলমে জটিল গাণিতিক সমীকরণ সমাধান করেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ—সংসার, পারিবারিক দায়িত্ব, স্ত্রীর অধিকার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ—নিয়ে এবার তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে আদালতের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী মোসাঃ রোজিনা সুলতানা। তিনি এক্সিম ব্যাংক পিএলসির একজন জুনিয়র অফিসার।
মামলায় কাবিননামা অনুযায়ী ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানের বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দাবির পরিমাণ ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি ইদ্দতকালীন ও ভবিষ্যৎ ভরণপোষণও চেয়েছেন বাদী।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর এমন মামলা শুধু ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিরোধের ঘটনা নয়; এটি নারীর আর্থিক অধিকার, দেনমোহর পরিশোধ, সন্তানের ভরণপোষণ এবং পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিয়ের সম্পর্ক থেকে আদালতের মামলা
২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত মামলাসংক্রান্ত সংবাদে বলা হয়েছে, সাভারের একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেন ও মোসাঃ রোজিনা সুলতানার মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
মামলার আরজিতে বিয়ের সম্পর্ক, পূর্ববর্তী বিয়ে ও তালাকের তথ্য এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় বিবাহের বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাঁরা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এই সংসারে তাঁদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
৫০ লাখ টাকা দেনমোহর: স্ত্রীর আইনগত অধিকার
মামলার অন্যতম প্রধান দাবি ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর। বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, কাবিননামায় নির্ধারিত এই অর্থ এখনো পাওনা রয়েছে।
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর স্ত্রীর নিজস্ব অধিকার। এটি স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো দয়া, অনুগ্রহ বা ঐচ্ছিক আর্থিক সহায়তা নয়; বরং বিবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইনগত দায়।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারা অনুযায়ী, কাবিননামায় দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্ট না থাকলে সম্পূর্ণ দেনমোহর চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য বলে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, তালাকের নোটিশ পাঠানো বা দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটলেও ইতিমধ্যে বকেয়া থাকা দেনমোহরের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
দুই সন্তানসহ চার বছর দুই মাসের বকেয়া ভরণপোষণ
মামলার আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, বাদী ও তাঁদের দুই সন্তানের গত চার বছর দুই মাসের ভরণপোষণ বাবদ মোট ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে বিবাদী বিভিন্ন সময়ে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ফলে বাদীর হিসাব অনুযায়ী বকেয়া রয়েছে ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।
এই অর্থের হিসাবের মধ্যে রয়েছে সংসার পরিচালনা, সন্তানদের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং জীবনযাপনের অন্যান্য খরচ।
তবে বাদীপক্ষের উপস্থাপিত হিসাবই চূড়ান্ত নয়। কত টাকা প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়েছে, কত টাকা বকেয়া রয়েছে এবং কোন সময়ের জন্য কী পরিমাণ ভরণপোষণ প্রাপ্য—এসব বিষয় আদালতে উপস্থাপিত দলিল, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
এক কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ, অস্বীকৃতির পর নির্যাতনের দাবি
মামলার বিবরণে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগও উঠে এসেছে। বাদীর অভিযোগ, ফ্ল্যাট কেনার জন্য স্ত্রীর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, রোজিনা সুলতানা প্রকাশিত সংবাদে নিজেই জানিয়েছেন, যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে এখনো পৃথক কোনো মামলা করেননি। তিনি সন্তানদের ভরণপোষণ এবং প্রাপ্য দেনমোহর আদায়ের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন।
অতএব, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। এগুলো প্রমাণিত অপরাধ কিংবা ওই অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলা হিসেবে প্রচার করা সঠিক হবে না।
ভরণপোষণ বন্ধ করে বাসা ছেড়ে যাওয়া ও তালাকের নোটিশ
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিবাদী ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে বাসা ছেড়ে চলে যান। পরে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়।
এখানে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
এই ধারায় তালাকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দেওয়ার এবং স্ত্রীর কাছে তার অনুলিপি পাঠানোর বিধান রয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকে ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে তালাক কার্যকর হয় না, যদি এর আগে তালাক প্রত্যাহার না করা হয়।
তাই তালাকের নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি, নোটিশের তারিখ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর প্রমাণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: কী করতে পারে আদালত?
বাংলাদেশে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই আইনের ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে রয়েছে—
– বিবাহবিচ্ছেদ।
– দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার।
– দেনমোহর আদায়।
– ভরণপোষণ আদায়।
– সন্তানের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।
অর্থাৎ স্ত্রী দেনমোহর ও ভরণপোষণের পাওনা আদায়ের জন্য পারিবারিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।
আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য, কাবিননামা, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ, সন্তানের প্রয়োজন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।
আদালতের ডিক্রি বা আদেশ অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলায় অভিযোগ উঠলেই সরাসরি কারাদণ্ড হয় না; আদালতের আদেশ, ডিক্রি এবং তা কার্যকরের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮: সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান হলো—
– সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড।
– সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
– অথবা উভয় দণ্ড।
আইনের ৪ ধারায় যৌতুক প্রদান, গ্রহণ, সহায়তা করা কিংবা এ উদ্দেশ্যে চুক্তি করার জন্যও একই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।
সুতরাং এক কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ যথাযথ প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, বর্তমান ঘটনায় যৌতুকের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এখানে উল্লেখিত শাস্তি সম্ভাব্য আইনগত পরিণতি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘোষিত সাজা নয়।
পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন: মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের প্রতিকার
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এ শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই আইনের আওতায় সংক্ষুব্ধ নারী আদালতের কাছে সুরক্ষা আদেশ, বসবাসের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিকার চাইতে পারেন।
বিশেষ করে ১৬ ধারায় ক্ষতিপূরণ আদেশের বিধান রয়েছে।
এ ধারায় আদালত—
১. শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
২. নারী ও তাঁর সন্তানের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিসংগত অর্থ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
৩. এককালীন অথবা মাসিক ভিত্তিতে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
৪. প্রতিপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বেতন বা পাওনা থেকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে এসব প্রতিকার পেতে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে যথাযথ আবেদন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান
প্রকাশিত সংবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহম্মদের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসেছে। বিষয়টি আইনগত হওয়ায় সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে। আইন উপদেষ্টার মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এ থেকে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং আইনগত মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত সংবাদে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য কী?
ড. এ বি এম শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রকাশ করা জরুরি। বিশেষ করে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর, বকেয়া ভরণপোষণ, অর্থ পরিশোধের দাবি, তালাকের নোটিশ এবং যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা পাঠকদের সামনে আসা প্রয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কাবিননামা, আদালতের আরজি ও অন্যান্য নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় বক্তব্য বা প্রতিবাদ প্রকাশের সুযোগ রাখবে।
এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি
এই মামলার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। কাবিননামায় ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরের তথ্য নিশ্চিত কি না, দেনমোহরের কোনো অংশ আগে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, চার বছর দুই মাসের ভরণপোষণের হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিবাদী ইতিপূর্বে কত টাকা দিয়েছেন—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন বা সাক্ষ্য আছে কি না এবং তালাকের নোটিশ আইনানুগভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
শেষ কথা: দেনমোহর অধিকার, সন্তানের ভরণপোষণ দায়িত্ব
একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, সমাজের কাছেও তিনি দায়িত্বশীলতার একটি প্রত্যাশার জায়গা তৈরি করেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পারিবারিক অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
তবে সামাজিক মর্যাদা বা পেশাগত পরিচয়ের কারণে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন; আবার অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
দেনমোহর স্ত্রীর অধিকার, সন্তানের ভরণপোষণ অভিভাবকের দায়িত্ব। আর যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত দুই শিশুর ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা। বাবা-মায়ের বিরোধের কারণে যেন তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে, সেটিই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সবার অগ্রাধিকার।
খাতাকলমের অঙ্কের বাইরে সংসারের যে মানবিক সমীকরণ, তার সমাধান হোক দায়িত্ববোধ, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের মাধ্যমে।
তথ্যসূত্র: ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত মামলাসংক্রান্ত সংবাদ; পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০।
তথ্য সহযোগিতা: তাছমিনা খন্দকার, লন্ডন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর