• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক?

জুলকারনাইন সাইরের ফেসবুক পোস্টে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে জমি দখল ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

 

জুলকারনাইন সাইরের ফেসবুক পোস্টে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে জমি দখল ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ (অব.) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দলিল জালিয়াতি ও অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ঢাকার সাভার ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৫–৩০ বিঘা জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইর তাঁর ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরে জমির মালিকানা, দলিল ও ব্যাংক মর্টগেজসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের উল্লেখ করেছেন।

পোস্টে দাবি করা হয়, ২০১৮ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২১ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনকালে জেনারেল আজিজ আহমেদ সরাসরি নিজের নামে জমি না নিয়ে তাঁর ভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফ, ভাই আনিস আহমেদের ছেলে আসিফ আহমেদ, অনুসারী হাবিব, বোনের স্বামী নূরুল ইসলাম এবং ম্যানেজার মনিরের মাধ্যমে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল ও কেনাবেচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযোগে ভাকুর্তা ইউনিয়নের নলাগড়িয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘চায়না আনোয়ার’-এর মাধ্যমে জমি কেনাবেচা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোসেফের সঙ্গে চায়না আনোয়ারের যোগাযোগের বিষয়েও পোস্টে দাবি করা হয়।

আমিনবাজারের সিলিকন সিটি ঘিরে অভিযোগ

জুলকারনাইন সাইরের পোস্টে আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়বরদেশী মৌজার আরএস ১৩০৩ দাগ ও খতিয়ান ৩৩৯-এর এক একর জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩১১ দাগের ৩০.৬ কাঠা এবং ১৭৬১ দাগের ৮০ কাঠা জমি সরকারি নথিতে ‘ছুট’ বা প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত থাকার পরও দখলে থাকার দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, ওই এলাকায় ‘সিলিকন সিটি’ নামে একটি হাউজিং প্রকল্পে জেনারেল আজিজের একটি বাংলোবাড়ি ও রিসোর্ট রয়েছে। প্রকল্পটির কয়েকজন পরিচালক বর্তমানে পলাতক থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

শ্যামলাসী ও দুদু মার্কেট এলাকায় জমি দখলের অভিযোগ

শ্যামলাসী কলাতিয়াপাড়ায় জমজম হাউজিংয়ের পাশে ৮০ শতক ও ৫০ শতকের দুটি প্রাকৃতিক জলাধার জেনারেল আজিজের ভাই জোসেফের নিয়ন্ত্রণে থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুদু মার্কেটসংলগ্ন একটি স্কুলের পাশে আরএস ১৩৪৯ দাগে ১৮ শতক জমি ২০২২ সালে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইউনূসের নামে কেনা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা জেনারেল আজিজের সহযোগীদের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল বলে পোস্টে দাবি করা হয়।

৫২ শতক জমি ও ব্যাংক মর্টগেজ নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি শ্যামলাপুর মৌজার জমি নিয়ে। পোস্টে বলা হয়েছে, জেনারেল আজিজের বোনের স্বামী নূরুল ইসলাম এসএ ৩৫৮ ও ৩৫৯ এবং আরএস ২৫০০ ও ২৫০১ দাগের মোট ৫২ শতক জমি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দখল করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে খোরশেদ আলমের ২৬ শতক, সেজান জুস কোম্পানির ২১.০৫ শতক এবং একরামুল হক হানিফের ৪.৯৫ শতক জমি রয়েছে। এসব দলিলের ভিত্তিতে জমিটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় মর্টগেজ রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রকৃত মালিক জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নিলে জেনারেল আজিজের ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত মনির তাঁকে হুমকি দেন। বর্তমানে জমিটি সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা রয়েছে এবং সেখানে ‘মাইশা কুটির, সাবিকুল ইসলাম দুর্জয়’ লেখা একটি ফলক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শ্যামলাপুর স্কুলের পাশে আরএস ২৮৮৬ দাগের প্রায় ৫ কাঠা জমি নূরুল ইসলাম ও হাবিবের যৌথ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সম্প্রতি তা বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ভূমি রেকর্ড ও বায়নানামা নিয়ে প্রশ্ন

জুলকারনাইন সাইরের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি রেকর্ডের তথ্য পর্যালোচনায় শ্যামলাপুর ও বড়বরদেশী মৌজার বিভিন্ন দাগে মালিকানা নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ‘ছুট’ হিসেবে চিহ্নিত জলাধারের ওপর দখলের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া হাতে লেখা বায়নানামা ও চুক্তিপত্রে জমি ক্রয়ের নামে স্বত্ব ত্যাগের মতো চুক্তি করা হলেও পরবর্তী সময়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে দখলে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমমোক্তারনামা ও হস্তান্তর-সংক্রান্ত আইনগত বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

তদন্তের দাবি

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ভাকুর্তা ও আমিনবাজার এলাকায় কথিতভাবে সক্রিয় হাবিব, মনিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের পাশাপাশি জমির মূল মালিকানা, দলিলের বৈধতা, অর্থের উৎস এবং লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষ করে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় ৫২ শতক জমি মর্টগেজ রাখার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ঋণ ফাইল ও দলিল পুনঃনিরীক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে সরকারি নথিতে চিহ্নিত জমিতে কোনো অবৈধ স্থাপনা বা দখল হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হয়নি। অভিযোগে উল্লিখিত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

তথ্যসূত্র: সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইরের ফেসবুক পোস্ট; প্রতিবেদনে উল্লিখিত ভূমি রেকর্ড, দলিল ও সংশ্লিষ্ট নথির দাবিসমূহ যাচাইসাপেক্ষ।


More News Of This Category
bdit.com.bd