বিশেষ প্রতিনিধি, শার্শা (যশোর):
রাজনীতি যখন অনেকের কাছে ব্যক্তিস্বার্থ ও পদ-পদবীর হিসাব-নিকাশ, তখন যশোর জেলার শার্শা ও বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে সম্পূর্ণ বিপরীত ও অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রবিউল ইসলাম রবি। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিঃস্বার্থ সেবা, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং কর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা দিয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। পদের মোহ কিংবা ব্যক্তি স্বার্থকে পেছনে ফেলে কেবল দল, দেশ ও এলাকার মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা এই ত্যাগী নেতা আজ অঞ্চলটির হাজারো নেতা-কর্মীর কাছে এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
ছাত্ররাজনীতি থেকে রাজনৈতিক জীবনের শুভসূচনা (১৯৯০–১৯৯১)
রবিউল ইসলাম রবির রাজনীতিতে হাতেখড়ি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে, যখন দেশজুড়ে চলছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। তৎকালীন উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান **‘সরকারি যশোর এম.এম. কলেজ’ ছাত্রদলের সদস্য** হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি সহযোদ্ধাদের নজর কাড়েন এবং দলের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ কর্মী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন।
যুবদলের সংগঠক ও নেতৃত্বের বিকাশ (১৯৯১–২০০৪)**
ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে রবিউল ইসলাম রবি সরাসরি যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সঙ্গে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে দ্রুতই তিনি স্থানীয় যুবদলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন।
১৯৯১–১৯৯৩ সাল:** যুবদলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে তিনি **শার্শা থানা যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক** এবং একই সাথে **বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক** হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
* **১৯৯৩–২০০৪ সাল:** দীর্ঘ ১১ বছর তিনি **শার্শা থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক** এবং **বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির** দায়িত্ব দক্ষতার সাথে সামলান। এই সময়ে শার্শা ও বাহাদুরপুরে যুবদলকে সুসংগঠিত ও আন্দোলনমুখী করে তুলতে তিনি দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেন।
মূল দল বিএনপিতে বলিষ্ঠ অবস্থান ও দায়িত্বপালন (২০০৪–২০২১)
যুবদলে দীর্ঘ সফলতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখার পর তিনি মূল দল বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত হন।
২০০৪–২০১৩ সাল:** তিনি **বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক** নির্বাচিত হন এবং একই সঙ্গে **শার্শা থানা বিএনপির সদস্য** হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
* **২০১৩–২০২১ সাল:** দলের কঠিন সময় ও রাজনৈতিক নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝেও টানা ৮ বছর তিনি **বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক** এবং **শার্শা থানা বিএনপির সদস্য** হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় অবদান রাখেন।
সংকটকালীন নেতৃত্ব ও আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব (২০২২–২০২৪)
দলের চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও সংকটকালে রবির নেতৃত্বের ওপর দলের হাইকম্যান্ড পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করে।
২০২২–২০২৪ সাল:** তিনি **বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক** এবং **শার্শা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য** হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময়ে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে সামনের সারিতে ধরে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তৃণমূলের ভালোবাসায় সরাসরি ভোটে সাধারণ সম্পাদক (২০২৪ – চলমান)
দীর্ঘ ৩৪ বছরের ত্যাগ, সততা এবং কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিদান পান ২০২৪ সালে।
২০২৪ সাল থেকে চলমান:** বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল বা সম্মেলনে **তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের প্রত্যক্ষ ও স্বচ্ছ ভোটে সাধারণ সম্পাদক** নির্বাচিত হন রবিউল ইসলাম রবি। একই সঙ্গে তিনি **শার্শা থানা বিএনপির সম্মানিত সদস্য** হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো লবিং বা প্রভাব বিস্তার নয়, বরং সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের শতস্ফূর্ত সমর্থনে তাঁর এই জয় প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল পদের জন্য নয়, বরং তৃণমূলের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একজন প্রকৃত জননেতা।
সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রবিউল ইসলাম রবিকে নিয়ে অপপ্রচার ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালায়। তবে ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ’-এর মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছড়ানো গুজবগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ইতিহাসই প্রমাণ করে— কোনো অপপ্রচার দিয়ে রবির জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তিতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।
–
নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি**
শার্শা থানা বিএনপি ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের প্রবীণ থেকে তরুণ— সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রবিউল ইসলাম রবি হচ্ছেন এমন এক নেতা যিনি কখনোই আদর্শচ্যুত হননি।
তৃণমূলের এক প্রবীণ কর্মী আবেগপ্লুত হয়ে মন্তব্য করেন:
> *”রবি ভাই ১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতির মাঠে একই নীতি ও আদর্শ নিয়ে টিকে আছেন। নেতাকর্মীদের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে দাঁড়ান। তৃণমূলের ভোটে তাঁর এই জয় আসলে সততা ও ত্যাগের জয়।”*
রাজনীতিকে ব্যক্তিগত অর্জনের মাধ্যম না বানিয়ে জনসেবার ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা এই অহংকারহীন ও জনবান্ধব নেতা শার্শা ও বাহাদুরপুরের রাজনৈতিক ময়দানে কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং সততা, ত্যাগ ও বিশ্বাসের এক অনন্য উজ্জ্বল বাতিঘর।