• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক?

এক লক্ষ কোটি টাকার ‘জান্নাত ব্যবসা’: ধর্ম, দান ও ডিজিটাল ন্যারেটিভের অদৃশ্য অর্থনীতি

হাকিকুল ইসলাম খোকন | বাপসনিউজ / ১০২ Time View
Update : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

এক লক্ষ কোটি টাকার ‘জান্নাত ব্যবসা’: ধর্ম, দান ও ডিজিটাল ন্যারেটিভের অদৃশ্য অর্থনীতি

হাকিকুল ইসলাম খোকন | বাপসনিউজ
বাংলাদেশে বহু বছর ধরে একটি জনপ্রিয় বাক্য শোনা যায়— “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।”
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্ন উঠছে: ধর্ম কি সত্যিই ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ আছে, নাকি তা পরিণত হয়েছে একটি সুসংগঠিত অর্থনৈতিক ও প্রভাব-শিল্পে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিবছর আনুমানিক এক লক্ষ কোটি টাকার জাকাত ও দান আদান-প্রদান হয়। এটি জাতীয় বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমান। এই বিপুল অর্থ যদি স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাত, তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থের ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
দান নাকি সুসংগঠিত ফান্ড মেকানিজম?
ধর্মীয় আবেগ, রমজান কেন্দ্রিক প্রচারণা, আবেগঘন ভিডিও কনটেন্ট এবং ডিজিটাল ফান্ডরেইজিং—সব মিলিয়ে দানের কাঠামো এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমাত্রায় সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে কয়েকটি বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ত্রাণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনেকের কাছে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি অংশ কি সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে? যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপিত হয়নি, তবুও ডিজিটাল ন্যারেটিভ গঠনে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রভাব নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ধর্মীয় অবকাঠামো ও সামাজিক প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র মানবিক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক মতামত গঠনে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক সংযোগের প্রশ্ন
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঘিরেও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর পুনরুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস–কে ঘিরেও রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়েছে। সমর্থকরা তাঁকে সংস্কারক হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা তাঁর আন্তর্জাতিক সংযোগ ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তবে এসব আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—ধর্মীয় আবেগ, সামাজিক প্রভাব ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
জাকাত অর্থনীতির অদৃশ্য দিক
বাংলাদেশে জাকাত ও দানের অর্থ সংগ্রহের কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেইস নেই। ফলে প্রকৃত অঙ্ক, বণ্টনের পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে:
জবাবদিহিমূলক অডিট বাধ্যতামূলক করা উচিত
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাকাত মনিটরিং কাঠামো গঠন প্রয়োজন
দাতাদের জন্য স্বচ্ছ রিপোর্টিং সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে
সাংস্কৃতিক সংকট নাকি রূপান্তর?
প্রশ্ন উঠছে—এটি কি ধর্মীয় জাগরণ, নাকি আবেগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের বিস্তার?
একসময় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাতীয় চেতনা ছিল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে ধর্মীয় পরিচয় ও নৈতিকতার ভাষ্য ক্রমেই প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
এটি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; বরং একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর—যেখানে অর্থ, বিশ্বাস ও ডিজিটাল প্রভাব একসঙ্গে কাজ করছে।

দান মানুষের ঈমানের অংশ। কিন্তু সেই দান যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বাইরে চলে যায়, তবে তা সামাজিক শক্তি হওয়ার পাশাপাশি প্রভাবের যন্ত্রেও পরিণত হতে পারে।
অতএব মূল প্রশ্নটি রয়ে যায়:
টাকাটা আপনার, বিশ্বাসটাও আপনার—কিন্তু তার ফলাফল কি সত্যিই আপনার?


More News Of This Category
bdit.com.bd