রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত দখলদারিত্বের অভিযোগ গুলশানে শতকোটি টাকার জমি নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ও রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর
/ ১৩৩
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
Share
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে শতকোটি টাকার একটি মূল্যবান জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে গুলশান নিকেতনের একটি জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান নিকেতনের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন, সুইসসোটেল–এর বিপরীতে অবস্থিত প্রায় ৪২.২৭ শতাংশ (সাড়ে ২৫ কাঠা) জমি নিয়ে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাজারমূল্যে যার দাম শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (আজ) ওই জমিতে কথিত “লেডিস ক্লাব ও পার্ক” নামে একটি প্রকল্পের উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের আড়ালেই মূলত জমিটি দখলে নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এক রাজউক কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানাকে ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পুরো ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ
ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা আব্দুর রহমান সোহেল জানান, তিনি নানার দানসূত্রে উক্ত জমির বৈধ মালিক। তবে গত ৫ আগস্টের পর রাজউক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী কারাবন্দি হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।
সোহেলের অভিযোগ, মামলার পর একাধিকবার তিনি রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। প্রতিবারই সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং পরবর্তীতে উপদেষ্টা ও রাজউকের প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বুলডোজার ও ভাঙচুরের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করে বুলডোজার এনে উক্ত জমিতে থাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় কথিতভাবে হুন্ডা ও গুন্ডা বাহিনী উপস্থিত ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্দেশনা আসে উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজউক কর্মকর্তার কাছ থেকে—এমন দাবিও করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার ওই জমিতে পার্ক ও লেডিস ক্লাব উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পার্কের আড়ালে বাণিজ্যিক স্থাপনার আশঙ্কা
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পার্কের নামে জমি দখল করে সেখানে ভবিষ্যতে দোকান ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। যার একটি অংশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ঘনিষ্ঠদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
হুমকি ও আইনি জটিলতা
সর্বশেষ জমির মালিক সোহেল অভিযোগ করেন, বিষয়টি আবারও রাজউক চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তিনি নাকি বলেন—
“উপদেষ্টা ও তার বান্ধবী যেটা করছে করতে দাও, পরে ভেঙে তোমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
এ সময় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নতুন মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে ভয় ও চাপের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছেন না ভুক্তভোগী পরিবার।
উপদেষ্টার নীরবতা
জানা গেছে, জমির মালিক আব্দুর রহমান সোহেল উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে জমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট পাঠিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত উপদেষ্টার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জবাবের চেষ্টা
এই অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে রাজধানীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।