• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত?

পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয়ে বেনজীর-নাফিসা সিন্ডিকেটের থাবা!

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ৬৫ Time View
Update : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয়ে বেনজীর-নাফিসা সিন্ডিকেটের থাবা!
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বডিওর্ন ক্যামেরা’ ক্রয়ের আড়ালে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশাল দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা নাফিসা কামালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’-এর মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। অপরাধের পাহাড় গড়ে তোলা বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের এই সম্পৃক্ততা পুরো এশিয়া মহাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

স্বচ্ছতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিতর্কিত টেন্ডার
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে পুলিশের প্রায় সকল প্রযুক্তিগত কাজ একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করত স্মার্ট টেকনোলজিস। বিস্ময়কর বিষয় হলো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় ক্রয় কার্যক্রম ইউএনডিপি (UNDP)-এর মাধ্যমে করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, পুনরায় এই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকেই কেন ক্যামেরা সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হলো?

সূত্রের খবর, গত বছরের ৯ আগস্ট ২৬৯ কোটি টাকা বাজেটে ৪০ হাজার ক্যামেরা কেনার যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাকে পাশ কাটিয়ে সোর্স মানি ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে চীন থেকে এই ক্যামেরাগুলো আমদানি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি: তথ্য পাচারের আশঙ্কা
জনসাধারণ এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মূল ভীতি কাজ করছে ডিভাইসের মান এবং এর ‘কানেক্টিভিটি’ নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে:

ডিভাইস প্রোফাইল: যদি এই ক্যামেরাগুলোতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা গোপন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকে, তবে পুলিশের স্পর্শকাতর মুভমেন্ট ও ফুটেজ দুষ্কৃতকারীদের হাতে চলে যেতে পারে।

আঞ্চলিক প্রভাব: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার এই ছিদ্র পুরো এশিয়া মহাদেশের নিরাপত্তা ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

নির্বাচনী ষড়যন্ত্র: নির্বাচনের দিন যদি এই ক্যামেরাগুলো পরিকল্পিতভাবে বিকল হয়ে যায়, তবে কেন্দ্র দখল বা ভোট কারচুপির মতো সহিংসতা ঠেকানো পুলিশের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তথ্য গোপন ও রহস্যময় নিরবতা
এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন—এই চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম আসলেও দাহুয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা কোনো ক্যামেরা সরবরাহ করেনি। মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরা পৌঁছে গেলেও পুলিশ সদর দপ্তরের টেলিকম বিভাগ বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন ক্যামেরা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করলেও এর একক মূল্য বা মোট ব্যয় নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা দেননি।

প্রশাসনের ভেতরে থাকা ‘দোসরদের’ ষড়যন্ত্র?
মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী দোসররা ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিতর্কিত সরঞ্জাম ক্রয়ের সাথে যুক্ত। নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চাপে ফেলার এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র হতে পারে।

প্রতিবেদনের মূল সারসংক্ষেপ:
মূল অভিযুক্ত: পলাতক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও নাফিসা কামাল।

বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান: স্মার্ট টেকনোলজিস।

বাজেট ও পরিমাণ: ২৬৯ কোটি টাকা দিয়ে ৪০,০০০ ক্যামেরা।

প্রধান ঝুঁকি: জাতীয় তথ্য চুরি, নির্বাচনে কারিগরি বিপর্যয় এবং চরম দুর্নীতি।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd