অতীতের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক
৮৬/২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ
যশোর প্রতিনিধি | ১৭ ডিসেম্বর
৮৬/২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নিকে কেন্দ্র করে যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—অতীতে যেভাবে রাতের আঁধারে মুন্নির স্বামী নাজমুলকে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক তেমন কোনো অশুভ পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি কি আবার ঘটতে যাচ্ছে?
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল ছিলেন ঝিকরগাছার “প্রাণ”। তার এক কথায় পুরো ঝিকরগাছা স্তব্ধ হয়ে যেত। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তার শক্ত অবস্থান ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই শক্ত অবস্থানই তাকে টার্গেট করে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত, সেই সব আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো বিচার হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদের ৫ আগস্টের পরপরই আইনের আওতায় আনা উচিত ছিল, তারা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আওয়ামী লীগের প্রভাব এবং অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতি মিলেই বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো প্রভাবশালী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান গ্রেপ্তার বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং তারা প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে—যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটেই আজ ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে আনুমানিক ১টার দিকে, ৮৬/২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নির ঝিকরগাছা উপজেলার বাসভবনে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এক সন্ত্রাসী বাসায় প্রবেশ করে কেয়ারটেকার ইমদাদুল হক ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে হামলা চালায়। খবর পেয়ে কাকন, রিয়েল, অনিকসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারী ধারালো বটি নিয়ে ধাওয়া করে এবং পালানোর চেষ্টা করে। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। হামলায় কেয়ারটেকারের স্ত্রী আহত হন।
পরে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার উদ্দেশ্য, পেছনের ইন্ধন এবং কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না—সবকিছুই তদন্তাধীন।
স্থানীয়দের মতে, নাজমুল হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা আজকের এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ৮৬/২ আসনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ কারণে সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা
নাজমুল হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত,
অতীত ও বর্তমান সব ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার,
এবং সাবিরা নাজমুল মুন্নিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।