“৫০ হাজার চাঁদা না দিলে পশম তুলে ফেলব”—রাজীবপুরে জামায়াত নেতার হুমকির অডিও ফাঁস!
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবু মিয়ার দাবি, ‘মামলা থেকে বাঁচাতে’ তাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন জামায়াতপন্থী শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজীবপুর উপজেলা সভাপতি আনিসুর রহমান।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ১ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি অডিও ও ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে শোনা যায়, আনিসুর রহমান বলেন:
> “তোমার যদি একটা পশমের ক্ষতি হয়, আমি রাজীবপুরে দ্বিতীয় দিন আর মুখ দেখাব না… ৫০ হাজার টাকা রেডি কর।”
এক পর্যায়ে তাকে আরও বলতে শোনা যায়:
> “তুমি বেশি কথা বল কীসের জন্য? আমি যা বলছি, তার চেয়ে বড় কোনো কথা আছে? তুমি কীসের বাপের চিন্তা কর?”
ব্যবসায়ীর অভিযোগ: ‘রাজনীতি করিনি, তবু হুমকি’
ব্যবসায়ী বাবু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, শুধু ব্যবসা করি। হঠাৎ আনিসুর রহমান আমাকে একটি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখায় এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি আতঙ্কে রয়েছি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাকে মোটরসাইকেলে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই মূল হুমকি ও অর্থ দাবি করা হয়।
আনিসুরের দাবি: ‘অডিও সম্পাদিত, ষড়যন্ত্র চলছে’
অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুর রহমান বলেন, “আমি তার কাছে কোনো টাকা চাইনি। অডিও ও ভিডিও কনটেন্ট সম্পাদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছড়ানো হয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বাবু মিয়াকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
জামায়াতের অবস্থান: তদন্তে যাচ্ছে দল
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মতিন ফারুকী বলেন, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি। আনুষ্ঠানিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে দলে গৃহীত নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ বলছে: অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা
রাজীবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় সদ্য যোগ দিয়েছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে এমন চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনক। জামায়াতের একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকির অভিযোগ—তা-ও অডিও-ভিডিওসহ—স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিষয়টি দলীয়ভাবে ‘তদন্তাধীন’ হলেও, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।