তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশক: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
২ আগস্টে স্মরণ: যেদিন এমপি খন্দকার আজিজ বুঝলেন, হাসিনার পতনের সময় এসে গেছে
নিজস্ব প্রতিবেদন
আজ ২ আগস্ট—একটি দিন, যা ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে রাজনৈতিক বোধের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ঠিক এক বছর আগে, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন: “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সাহেবের উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং একটি গভীর মানবিক ও রাষ্ট্রিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ ছিল—যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই ভাঙনের বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। এক ধরনের ‘ড্যামোলেস তরবারি’র মতোই যেন ঝুলে ছিল এই স্ট্যাটাসটি।
এমপি আজিজের স্ট্যাটাসে কী ছিল?
স্ট্যাটাসে খন্দকার আজিজ অকপটে লিখেছিলেন:
“সাধারণ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার কোনো সলিউশন হতে পারে না… তাদের নিশর্ত মুক্তি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, জাতীয় অধ্যাপক ও আন্দোলনকারীদের নিয়ে সার্বজনীন ডায়লগে বসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন:
“সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়—যাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি, সেই ওবায়দুল কাদের ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—তাদের কাউকে শিক্ষার্থীদের কাছে এখনো দুঃখ প্রকাশ করতে দেখিনি। দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব যেমন নিতে হয়, দায়ও নিতে হয়।”
এই স্ট্যাটাসের পরপরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছিলেন, এটি শুধু একজন এমপির কণ্ঠ নয়—বরং একটি দ্বিধাগ্রস্ত শাসনব্যবস্থার ভেতর থেকে আত্মপ্রকাশ করা এক অন্তর্দৃষ্টি।
‘ফ্যাসিস্ট পতনের আলামত’ কি এমপি আজিজ তখনই টের পেয়েছিলেন?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এমপি আজিজের ওই স্ট্যাটাস ছিল এক ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী—যেখানে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, সরকার যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আমল না দেয়, তাহলে শাসনের ভিত্তিই নড়ে যেতে পারে। বাস্তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তার কথারই প্রতিফলন—যেখানে জনরোষ, নিপীড়নের প্রতিবাদ, ও তরুণদের সংগঠিত প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন মুখ থুবড়ে পড়ে।
আজ কেন গুরুত্বপূর্ণ ২ আগস্ট?
২০২৪ সালের ২ আগস্টের সেই স্ট্যাটাস শুধুমাত্র রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এটি ছিল জনতার কণ্ঠস্বরের একটি প্রতিধ্বনি—যেখানে রাষ্ট্রের একজন এমপি নিজের দলীয় অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেও দ্বিধা করেননি। এই দিনটি আজ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি মানসিক মাইলফলক হয়ে আছে, যেখানে জনপ্রতিনিধির বিবেক রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যায়।
এখন, এক বছর পর, সেই এমপি খন্দকার আজিজ কোথায়? তিনি কি এখনো একই আদর্শে অবিচল? নাকি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন পথ বেছে নিয়েছেন?
স্মরণীয় এই দিনে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২ আগস্ট ২০২৪—একটি রাজনৈতিক জেগে ওঠার দিন হিসেবেই গণতন্ত্রের বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এক প্রকার হাসিনার সাথে সরাসরি বিদ্রোহ করছিলেন এই আজিজ।