১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে ফিরছেন তারেক রহমান: দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইটের বিস্তারিত ও সফরসঙ্গী
দলীয় সূত্র ও সংবাদপত্র সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-২০২০) একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানটি ঢাকায় নামার আগে সিলেটে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি দেবে।
অভূতপূর্ব সংবর্ধনার প্রস্তুতি
তারেক রহমানকে বরণ করতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় একটি বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সংবর্ধনা স্থল পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থা
নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১০টি রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা এই বিশেষ ট্রেনে করে ঢাকায় পৌঁছাবেন। এছাড়া নিয়মিত ট্রেনগুলোতেও অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘আইরন-ক্ল্যাড’ বা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে মার্কিন দূতাবাস থেকেও তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে, যাতে ওইদিন যানজট ও ভিড় এড়াতে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম গন্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচি
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যেতে পারেন তাঁর অসুস্থ মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার জন্য। এরপর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’র পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নেবেন।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে। দীর্ঘ সময় পর তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন, যা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে।