লেখক: নাজমুল হাসান
তারিখ: ৫ জুলাই ২০২৫
শিরোনাম:
“সে সময় আমার সেনাপ্রধান হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি” — আমান আযমী অবশেষে ভাঙলেন নীরবতা
বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক সময় ঘুরেফিরে আলোচনায় আসা একটি বিতর্ক ছিল—২০০৫ সালে বিএনপি সরকার নাকি কেবলমাত্র রাজনৈতিক কারণে গোলাম আজমের সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আযমীকে সেনাপ্রধান বানায়নি। অনেকেই দাবি করতেন, সেনাবাহিনীর তালিকায় আমান আযমী অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ছিলেন, কিন্তু তাকে পাশ কাটিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান করে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করেছে বিএনপি।
এই অভিযোগের পালে এতদিন ধরে অনেকেই হাওয়া দিয়ে এসেছেন, বিশেষত আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিক ও তল্পিবাহক বিশ্লেষকরা। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো, স্বয়ং আমান আযমী নিজেই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তার বক্তব্যে এই বিতর্ক অনেকটাই নিস্প্রভ হয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে আমান আযমী স্পষ্ট ভাষায় জানান—“২০০৫ সালে আমার সেনাপ্রধান হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার সিনিয়র ছিলেন অন্তত আরও তিনজন।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী চললে আমি সেনাপ্রধান হতাম আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের পরে।”
প্রসঙ্গত, জেনারেল আবু বেলাল ২০১৫ সালের ২৫ জুন থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। অর্থাৎ, আযমী সাহেবের প্রাক্কলিত সিরিয়াল অনুসারে তার সম্ভাব্য সেনাপ্রধান হওয়ার সময় ছিল ২০১৮ সালে, নয় ২০০৫ সালে।
বিএনপির আমলে সেনাবাহিনীতে তথাকথিত “জামাতপন্থী অফিসারদের উপেক্ষা” করা হচ্ছে—এই অভিযোগ বহুবার এসেছে। তবে আমান আযমীর এই খোলামেলা বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল, তাকে অবজ্ঞা করার কোনো প্রশ্নই ২০০৫ সালে ছিল না, বরং সময়ানুগ প্রটোকলের পথ ধরলে তিনি ২০১৮-এর আগে সেনাপ্রধান হওয়ার পর্যায়ে আসেননি।
অথচ, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। অনলাইনে নানা কল্পকাহিনি ছড়ানো হয়েছে—যেন বিএনপি একটি ‘নৈতিক অন্যায়’ করেছে।
আমান আযমী একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত সামরিক কর্মকর্তা। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। কিন্তু তার রাজনৈতিক পরিচয়—‘গোলাম আজমের পুত্র’—তাকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
২০০৭ সালের তথাকথিত এক-এগারোর সময়, সেনা-সমর্থিত সরকারের পেছনে সক্রিয় ভূমিকায় থাকা জেনারেল মইন ইউ আহমেদ-এর ভূমিকা ও উত্থানকে ঘিরে এই গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে বিএনপি আমান আযমীকে বাদ দিয়ে মইনকে তোলার মাধ্যমেই নিজের কবর রচনা করেছিল।
কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। এবং এখন আমান আযমীর নিজের মুখেই এসেছে সেই সত্য—সরাসরি, স্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে।
বিএনপিকে আঘাত করতে যে ইতিহাস বিকৃতি ও অর্ধসত্য বহুদিন ধরে ঘোরাফেরা করছিল, সেই গল্পের ফাঁক এবার নিজেই বন্ধ করলেন আমান আযমী। এখন সময় এসেছে—বিষয়টি নিয়ে যারা এতদিন মুখে ফেনা তুলে গেছেন, তারা নিজেদের মিথ্যা লেকচারগুলো একে একে ডিলিট করে নেন।
কারণ, সত্য একটাই—“সে সময় আমার সেনাপ্রধান হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি।”