সড়কমন্ত্রীর ‘চাঁদা’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান তাহেরীর
নিজস্ব প্রতিবেদন
সড়কে অর্থ আদায়কে ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে না দেখার মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার এ বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী, যিনি মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
কী বলেছিলেন মন্ত্রী?
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবহন খাতে অর্থ আদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে যে অর্থ তোলা হয়, সেটিকে তিনি ‘চাঁদাবাজি’ মনে করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ সমঝোতার ভিত্তিতে এবং একটি অলিখিত বিধি মেনে সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে নেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কেউ স্বেচ্ছায় অর্থ দিতে না চাইলেও তাকে বাধ্য করা হয়। সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ আদায় হলে তা চাঁদাবাজি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাহেরীর প্রতিক্রিয়া
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রতিক্রিয়া জানান মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। তিনি লেখেন,
“চাঁদা এক ধরনের জুলুম—হোক সমঝোতার ভিত্তিতে কিংবা জোর-জবরদস্তির ভিত্তিতে। আপনার বক্তব্যে চাঁদাবাজি উৎসাহ পেতে পারে। আশা করছি, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী বক্তব্যটি প্রত্যাহার করবেন। জয় হোক মানবতার।”
তার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত উঠে আসে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, ‘চাঁদা’ ও ‘চাঁদাবাজি’ শব্দের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সংগঠনের কল্যাণে স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থকে চাঁদাবাজি বলা যায় না। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তথাকথিত ‘সমঝোতা’ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভিন্ন নামে হলেও চাঁদাবাজিরই রূপ।
রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ পরিবহন খাত দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে আলোচিত। ফলে মন্ত্রীর বক্তব্য জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—সমঝোতার আড়ালে আদায় হওয়া অর্থ কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক?
সড়ক খাতে অর্থ আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে যখন নৈতিকতা, আইন ও বাস্তবতার প্রশ্ন উঠে আসে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রী তার বক্তব্যে অনড় থাকেন, নাকি সমালোচনার প্রেক্ষিতে নতুন ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহারের পথে হাঁটেন।