📰 সংবাদপত্র রাষ্ট্রের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
✍️ মোঃ শাহজাহান বাশার
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক জনতার মতামত
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদপত্রকে ধরা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে। এটি কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং নাগরিক সমাজের স্বর, রাষ্ট্রের জবাবদিহির হাতিয়ার এবং জনমতের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—রাষ্ট্রের কাছে সংবাদপত্র কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
এর উত্তর নির্ভর করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার উপর।
প্রথমত, রাষ্ট্র ও সরকার এক জিনিস নয়। একটি রাষ্ট্র যদি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পরিচালিত হয়, তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তার মৌলিক নীতির অংশ। কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়, কিংবা সরকার সমালোচনা সহ্য করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন সংবাদপত্রের প্রতি সহনশীলতা কমে যায়। দেখা যায়, তথ্য গোপন, চাপ সৃষ্টি, কিংবা বিজ্ঞাপন বন্ধ করে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
দ্বিতীয়ত, সংবাদপত্র নিজেও একটি দায়িত্বশীল সত্তা। যদি এটি দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে পড়ে বা অপসাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতা রাষ্ট্র তো বটেই, জনগণের কাছেও কমে যায়। বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্যনিষ্ঠতা ও সাহসিকতা—এই তিনেই সংবাদপত্রের মূল গ্রহণযোগ্যতা নিহিত।
তৃতীয়ত, সংবাদপত্রের প্রকৃত গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থার উপর নির্ভর করে। যদি জনগণ বিশ্বাস করে যে একটি সংবাদমাধ্যম তাদের পক্ষে কথা বলছে, সত্যকে তুলে ধরছে, এবং রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে—তবে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। আর এই স্বীকৃতির ছায়াতেই রাষ্ট্রও চাপ অনুভব করে, সংবাদপত্রকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
সুতরাং, সংবাদপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কেবল রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে না, বরং এটি সংবাদমাধ্যমের নৈতিক দৃঢ়তা, পেশাগত মান এবং জনগণের আস্থার সম্মিলিত ফসল।
একটি উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদপত্র ও রাষ্ট্র সহাবস্থানের ভিত্তিতে চলে—যেখানে একপক্ষ প্রশ্ন তোলে, আর অন্যপক্ষ জবাব দেয়। এই জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের প্রাণ।
আপনার আরও কিছু সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে বা লেখাটিকে নির্দিষ্ট কোন পত্রিকা বা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মানিয়ে নিতে চাইলে জানাবেন।