র-এর এজেন্ট পিনাকী ভট্টাচার্য: অপারেশন কাঠমান্ডু থেকে টুইটার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত?
ঢাকা | জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদন: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
সাম্প্রতিক একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” (RAW)–এর গোপন এজেন্ডার সঙ্গে পিনাকী ভট্টাচার্যের নাম উঠে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এই আলোচিত ব্লগার ও ইউটিউবারকে ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিযোগের শিকড়: নেপাল হয়ে পালানোর কাহিনি
২০২৩ সালের শেষার্ধে ‘অপারেশন কাঠমান্ডু’ নামে অভিহিত এক পলায়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পিনাকী ভট্টাচার্য বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। বিএনপি-ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ওই সময় তিনি ‘গভীর রাষ্ট্র’ ও উচ্চমহলের দিক থেকে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছিলেন। কিন্তু অন্য একমুখী তথ্য বলছে—পালিয়ে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘র’–এর নির্ধারিত অপারেশনে অংশ নেওয়া।
নেপালে একাধিক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে গোয়েন্দা নথিতে। অভিযোগ, সেখানেই পিনাকীর সঙ্গে র–এর উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং ইউরোপে “বাংলাদেশবিরোধী মিডিয়া ফ্রন্ট” পরিচালনার মিশন গঠিত হয়।
ডিজিটাল যুদ্ধ: সোশ্যাল মিডিয়ার ছদ্মবেশী প্রচারণা
ফ্রান্সে অবস্থানকালে পিনাকী ভট্টাচার্য ‘Bangladesh Politics’ নামে একাধিক ইউটিউব চ্যানেল ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল চালু করেন, যেখানে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ আধুনিক হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারের অংশ। এই প্রচার পরিকল্পনার পেছনে ফান্ডিং, প্রযুক্তি সহায়তা ও বিদেশি ট্রেনিংয়ের ছোঁয়া স্পষ্ট।
একজন প্রবাসী সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন,
“পিনাকীর কনটেন্ট নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রবিরোধী। এগুলো র্যাণ্ডম র্যান্ট নয়, বরং কোডিফায়েড অপারেশনাল ন্যারেটিভ।”
ফ্রান্সের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে
বর্তমানে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা পিনাকী নিজেকে ‘নির্বাসিত বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—ফরাসি প্রশাসন কি জানে যে তাদের মাটিতে বসে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে?
ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা DGSI–এর চোখ এড়িয়ে এই কর্মকাণ্ড কিভাবে সম্ভব, সেটি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা।
একজন এজেন্ট না কি রাষ্ট্রচিন্তক?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একদল পিনাকী ভট্টাচার্যকে সাহসী অভিব্যক্তির প্রতীক বলে দাবি করলেও, বাস্তবতা হলো—তার বক্তব্যে কোনো মৌলিক রাজনৈতিক রূপরেখা নেই, নেই বিকল্প উন্নয়ন দর্শন। আছে শুধু নিরবিচারে হিংস্র সমালোচনা, যেটি বরং একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা বলেই প্রতীয়মান।
জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র থেকে জানা যায়, পিনাকী ভট্টাচার্যকে ইতিমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি (National Security Threat) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির প্রস্তুতিও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হতে পারে।
স্বাধীন মতের মুখোশের আড়ালে কোনো গোপন এজেন্ডা?
আজকের ডিজিটাল যুদ্ধের ময়দানে মতপ্রকাশ আর রাষ্ট্রদ্রোহের মধ্যে সূক্ষ্ম বিভাজন রেখা আছে। পিনাকী ভট্টাচার্যের কর্মকাণ্ড সেই রেখা বারবার অতিক্রম করছে কি না—তা সময়ই বলবে। তবে রাষ্ট্র যদি সতর্ক না হয়, তবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হুমকি কেবল বাইরের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এক্স, ইউটিউব আর ব্লগে রচিত হবে বাংলাদেশের অস্থির ভবিষ্যৎ।