যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে তীব্র বিতর্ক
মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে তৃণমূল নেতা–কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা**
হাফিজুর রহমান, যশোর প্রতিনিধি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর-৬ কেশবপুর আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রাথমিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের মাঝে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই আসনে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে প্রার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষোভ, হতাশা এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার পর্যন্ত।
তাদের দাবি—দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকা, দীর্ঘদিন সংগঠনকে ধরে রাখা এবং বিএনপির ঘরবাড়ি রক্ষা করা আবুল হোসেন আজাদ ছাড়া এই আসনে দলের জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই।
—
দলের সংকটে যে নেতৃত্ব সবার আগে—সেই আজাদই আজ উপেক্ষিত?
যশোর-৬ আসনে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ।
দলের দুঃসময়ে মামলা–হামলায় জর্জরিত কর্মীদের পাশে থাকা, আর্থিক সহায়তা করা, মামলা পরিচালনার ব্যয় বহন করা—সবকিছুই করেছেন তিনি।
এমন একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাকে উপেক্ষা করে হঠাৎ করে তুলনামূলক অপরিচিত এক ব্যক্তিকে প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় তৃণমূলের বিস্ময় ও হতাশা চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় জন opinion বলে—“আমরা আজাদ ভাইকে বছরের পর বছর চিনি, শ্রাবণকে কখনো কেশবপুরে দেখিনি। কেশবপুর বিএনপির জন্য আজাদ ছাড়া বিকল্প নেই।”
—
যে নেত্রী নারী ভোটারদের মধ্যে জাগরণ তৈরি করেছেন
৮নং সুফলাকাঠী ইউনিয়নের কয়েকজন নারী ভোটার জানান—
আবুল হোসেন আজাদের সহধর্মিনী রেহানা আজাদ কেশবপুরে নারী সমাজের মধ্যে এক অনন্য গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, নানা সামাজিক কার্যক্রম ও সংগঠনমুখী ভূমিকার কারণে নারী ভোটারদের বড় অংশই আজাদ দম্পতির প্রতি আস্থাশীল।
তাদের মতে—
“যদি আজাদ সাহেবকে মনোনয়ন না দেওয়া হয়, নারী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াত প্রার্থীর দিকে ঝুঁকে যাবে। এতে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
—
তৃণমূলে অভিযোগ: মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ নেই
৯ নম্বর গৌরিঘোনা ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীরা বলেন—
“শ্রাবণ কেশবপুরে বিএনপির লোকজনের সঙ্গে কখনোই কাজ করেননি। তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে গণসংযোগ করছেন। একজন বিএনপি প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনের ওপর ভরসা করে তিনি কীভাবে জয়ী হবেন?”
তাদের আরও অভিযোগ—
“শ্রাবণ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বা অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন, যা দলের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।”
—
মঙ্গলকোট ইউনিয়ন: ‘আজাদ ভাই ছাড়া বিএনপির জয়ের স্বপ্ন দেখা বোকামি’
৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য—
“আজাদ ভাই ছাড়া এই আসনে বিএনপির কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। শ্রাবণের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। এমন প্রার্থীকে দিয়ে নির্বাচন করলে ধানের শীষ নিশ্চয়ই পরাজিত হবে।”
—
১৮ সালের নির্বাচনে ভয়–হামলার মধ্যেও একমাত্র আজাদ মাঠে নেমেছিলেন
৭নং পাঁজিয়া ইউনিয়নের নেতা–কর্মীদের ভাষ্য—
“২০১৮ সালের নির্বাচনে মামলা, গ্রেফতার ও হামলার ভয়ে কেশবপুরে বিএনপি থেকে কেউ মনোনয়ন নিতে রাজি হয়নি। তখন একমাত্র সাহস করে আজাদ ভাই মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামেন।
দলের দুঃসময়ে সাহস দেখানো সেই নেতাকে আজ বাদ দেওয়া হলে কেশবপুর বিএনপির কর্মীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে।”
—
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত: ৪৬ বছরের জয়ের খরা কাটাতে পারতেন আজাদ
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন—
৪৬ বছর ধরে কেশবপুর থেকে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। অথচ আবুল হোসেন আজাদ এবং তার সহধর্মিণীর সুদীর্ঘ সময়ের সংগঠনী কাজ, গ্রাম–পাড়া–মহল্লা জুড়ে তাদের জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূলের নিখুঁত প্রস্তুতির কারণে এইবারই ছিল বিএনপির নিশ্চিত জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
তাদের মতে—
“আজাদ মনোনয়ন পেলে যশোর-৬ আসনে বিএনপি অনায়াসে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারত। এটি দলের জন্য ঐতিহাসিক জয় হয়ে উঠতে পারত।”
—
**তৃণমূলে এক দাবি—
“মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দিন”**
সব ইউনিয়ন, সব ওয়ার্ড, সব স্তরের নেতা-কর্মী এবং ভোটারদের দাবি একটাই—
যশোর-৬ কেশবপুর আসনের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে আবুল হোসেন আজাদকে প্রার্থী করা হোক।
নতুবা তৃণমূলের হতাশা, বিভক্তি এবং ভোটপলায়নের কারণে ধানের শীষের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতি হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।