যশোর-১ (শার্শা-৮৫) আসনের নির্বাচনী এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমানের কর্মকাণ্ডে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একদিকে তিনি বিরোধী পক্ষকে মাইকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রচারণায় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় আইনের অবমাননা করছেন। এতো কিছুর পরও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১. জাতীয় পতাকার অবৈধ ব্যবহার: দণ্ডনীয় অপরাধ
মাওলানা আজিজুর রহমানের নির্বাচনী পোস্টার এবং প্রচারণা মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। দেশের ‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও মাওলানা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা ভোটারদের বিস্মিত করেছে।

২. মাইকে চরিত্র হনন ও সংঘাতের উসকানি
শার্শার প্রতিটি মোড়ে মাওলানার প্রচার মাইকে বিরোধী পক্ষকে (ইঙ্গিতে বিএনপি ও হাতপাখা পক্ষ) উদ্দেশ্য করে “সন্ত্রাসী”, “দখলবাজ” ও “চাঁদাবাজমুক্ত শার্শা গড়তে ভোট দিন” এমন উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ভোটাররা বলছেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি বিশাল জনগোষ্টীকে এভাবে আক্রমণ করা দাঙ্গার উসকানি দেওয়ার শামিল। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ধরনের সম্মানহানিকর বক্তব্য বন্ধ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
৩. বিতর্কিতদের নিয়ে ‘পবিত্র’ স্লোগান
মাওলানা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের নিজের মিছিলে প্রকাশ্য ঠাঁই দিয়েছেন। নিজের বলয়ে দাগি অপরাধীদের রেখে মাইকে “সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ” গড়ার বুলি দেওয়াকে ভোটাররা ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যিনি অপরাধীদের সাথে নিয়ে ঘোরেন, তিনি কোন মুখে অন্যদের সন্ত্রাসী বলেন?
৪. প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ
জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং নির্বাচনী আচরণবিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘনের পরও প্রশাসন কেন নীরব, তা নিয়ে শার্শায় কানাঘুষা চলছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। একজন প্রার্থীর জন্য জাতীয় পতাকা কেন নির্বাচনী ঢাল হবে? কেনই বা তিনি মাইকে যাকে-তাকে গালি দেবেন?”
আইন যা বলে:
পতাকা বিধিমালা: জাতীয় পতাকার অবমাননা করলে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি (বিধি ১১): ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মানহানি করলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রাখে কমিশন।
দণ্ডবিধি ২১২: চিহ্নিত অপরাধীকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ।
জনগণের বার্তা:
শার্শাবাসী চায় একটি সুস্থ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত স্বার্থে এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হোক এবং জাতীয় পতাকার অবমাননা হোক—তা সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। অবিলম্বে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় জনগণ।