তারিখ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: বিএনপি মিডিয়া সেল
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গোটা দেশ যখন শোক ও স্তব্ধতায় নিমজ্জিত, তখন সেই ভয়াবহতার মধ্যেই উদ্ভাসিত হয়েছে এক অনন্য আত্মত্যাগের আলোকস্তম্ভ—শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।
দুর্ঘটনার সময় বিমানের আগুন ও ধোঁয়ার ভয়াবহ পরিবেশে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা যখন দিগ্বিদিক ছুটছিল, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবে মাহেরীন ঝাঁপিয়ে পড়েন বাচ্চাদের উদ্ধারে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের বর্ণনায় জানা যায়—তিনি একে একে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে আগুনের ভেতর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনেন। তাদের কেউ অক্ষত, কেউ সামান্য আহত। কিন্তু নিজের জীবনের সেই বিপরীতে তিনি নিজে ধোঁয়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং আর ফেরা হয়নি।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ড চৌধুরীপাড়ার কৃতী সন্তান মাহেরীন চৌধুরী ছিলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন আদর্শ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও পেশাগত নিষ্ঠা ছিলেন অনুকরণীয়। স্বামী মনসুর হেলাল জানান, গতকাল ভোরে তাঁর নিথর দেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয় এবং পরিবারের কবরস্থানে তাঁকে শোকাহত পরিবেশে দাফন করা হয়।
এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ শুধু একজন শিক্ষিকার গল্প নয়—এটি এক জাতির আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। আজ পুরো বাংলাদেশ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে মাহেরীন চৌধুরীকে। তিনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন; তিনি হারিয়ে গিয়ে হয়ে উঠেছেন অমর।
বিএনপি মিডিয়া সেল এই আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে এবং তাঁর স্মৃতি জাতির প্রেরণায় রূপ নিক—এই কামনা জানাচ্ছে।