অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট : ওয়াকার কি সত্যিই উদ্ধারকর্তা, নাকি হাসিনার রক্ষাকবচ?
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে ঘিরে বিতর্ক এখন চরমে। জুলাই বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ জমে উঠছে। ওয়াকারের পদক্ষেপগুলোকে অনেকে দেশরক্ষার সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করলেও বাস্তবতা ভিন্ন—তিনি ছিলেন মূলত শেখ হাসিনার পরিত্রাতা।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও ওয়াকারের উত্থান
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার অধ্যায়ের পর থেকেই ওয়াকারকে নিয়ে গোপন প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ আছে, তিনি ওই ঘটনার ছায়ায় থেকেই হাসিনার আস্থাভাজন হন। হাসিনা তাকে সেনাপ্রধান করার পেছনে ওই অন্ধকার যোগসূত্রই ছিল প্রধান কারণ। রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা জানতেন, একজন ‘বিশ্বস্ত সেনা কর্মকর্তা’ ছাড়া তার ক্ষমতা টিকবে না।

জুলাই বিপ্লবে ওয়াকারের প্রতিশ্রুতি
২০২৫ সালের জুলাই বিপ্লবে যখন শেখ হাসিনা চূড়ান্ত পতনের মুখে, তখন সেনাপ্রধান ওয়াকার নিজেকে ‘দ্বিতীয় বিকল্পহীন’ অবস্থায় খুঁজে পান। বিদ্রোহী সেনা অফিসারদের হাতে তার নিজের জীবনও ঝুঁকির মুখে ছিল। এই প্রেক্ষাপটে হাসিনাকে দেশত্যাগে সহায়তা করা ছিল তার নিজের টিকে থাকার পথ। হাসিনাকে পালানোর সুযোগ দিয়ে তিনি কেবল তাকে নয়, নিজের অস্তিত্বও বাঁচিয়েছেন।
জানা যায়, হাসিনা পালানোর আগে ওয়াকারকে প্রতিশ্রুতি দেন—তার দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপদে দেশত্যাগ নিশ্চিত করতে। পরে ওয়াকার সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেন।
যদি হাসিনা পালাতে না পারতেন?

ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা যেত যদি ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালাতে না পারতেন। সম্ভাব্য তিনটি দৃশ্যপট সামনে আসে:
1. বিদ্রোহী সেনা অফিসারদের হাতে ওয়াকারের মৃত্যু ঘটত।
2. গণভবনে সাধারণ জনগণের হাতে শেখ হাসিনার করুণ পরিণতি হতো।
3. বিদেশি নিষেধাজ্ঞা, বিশেষত মার্কিন চাপের কারণে সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল প্রবল।
এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ওয়াকারকে ‘উদ্ধারকর্তা’ বলে দাবি করছেন, যা আসলে ভ্রান্ত বিশ্লেষণ। বাস্তবতা হলো—তিনি জাতির নয়, হাসিনার জীবন রক্ষা করেছেন।
দেশপ্রেমিক হলে ভিন্ন চিত্র হতো
একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক সেনাপ্রধান হলে পদক্ষেপ ভিন্ন হতো। তিনি হাসিনাকে পালাতে সহায়তা করতেন না, বরং তাকে বন্দি করে আইন ও সংবিধানের আওতায় আনতেন।
সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল আয়নাঘর। হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা সেই ভয়াবহ নির্যাতনকেন্দ্র বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম দিনেই উন্মুক্ত করা উচিত ছিল। বরং প্রমাণ নষ্ট করে আয়নাঘরের সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে—যা ইতিহাসের সঙ্গে এক বিশ্বাসঘাতকতা।
ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা
ওয়াকারের ভূমিকা স্পষ্ট করেছে, সেনাপ্রধানরা যখন জনগণের প্রতিনিধি নয়, ক্ষমতাসীনদের নিরাপত্তা বাহক হয়ে ওঠেন—তখন জাতি বারবার প্রতারিত হয়।
জুলাই বিপ্লব থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়, জনগণের শক্তিই প্রকৃত মুক্তির পথ। ইতিহাস একদিন ওয়াকারকে বিচার করবে—তিনি জাতির নায়ক নন, বরং সেই অন্ধকার অধ্যায়ের এক অংশীদার।