২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সময়: রাত ১০:৩০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
পরকীয়া: সমাজে দাম্পত্য ভাঙনের অদেখা কারণসমূহ
সম্পর্কের বাইরে সম্পর্ক—পরকীয়া—আজকের সমাজে একটি গোপন, কিন্তু ব্যাপক প্রভাবশালী বিষয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং সামাজিক ও মানসিক বিভিন্ন উপাদানের জটিল সমন্বয়। সম্প্রতি গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, পরকীয়ার আসল কারণগুলো অনেক সময় আমাদের প্রত্যাশার বাইরে থাকে।
১. একঘেয়েমি ও সম্পর্কের অসম্পূর্ণতা
দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ হলে একঘেয়েমি দেখা দেয় এবং মানসিক বা শারীরিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ছোট ছোট অবহেলা, দিনের ব্যস্ততা বা একঘেয়ে রুটিন প্রলোভনের সূত্রপাত ঘটায়।
২. আবেগিক শূন্যতা
শারীরিক নয়, আবেগিক খাচাই অনেক সময় মানুষকে অন্য সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়। যখন ঘরের পরিবেশে যত্ন, সংবেদনশীলতা বা সঙ্গীর মনোযোগ কমে, তখন বাইরের সামান্য যত্নকেও বিশেষ মনে হয়।
৩. প্রতিশোধ ও আত্মপ্রমাণের চেষ্টা
অনেকে পরকীয়ায় জড়ান প্রতিশোধ নিতে বা নিজেদের মানসিক ও সামাজিক শক্তি প্রমাণ করার জন্য। সঙ্গীর অবহেলা, সন্দেহ বা বিশ্বাসভঙ্গ থেকে উদ্ভূত ক্ষোভ প্রায়শই এ দিকে পরিচালিত করে।
৪. সুযোগ ও প্রলোভন
ডিজিটাল যুগে সহজ যোগাযোগ ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। হঠাৎ পাওয়া প্রলোভন বা নতুন সংযোগ অনেক সময় সম্পর্ক ভাঙার পথে ঠেলে দেয়।
৫. ব্যক্তিত্বগত এবং মনস্তাত্ত্বিক কারণ
কিছু মানুষ স্বভাবগতভাবে এক সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী থাকতে পারেন না। আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব, অ্যাডভেঞ্চারের আকাঙ্ক্ষা বা আত্মসম্মানের জটিলতা পরকীয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষণ
পরকীয়ার আসল মূলকথা সবসময় ভালোবাসার অভাব নয়। বরং এটি একটি জটিল মিশ্রণ—অপূরণ, অবহেলা, ভুল যোগাযোগ এবং সামাজিক প্রলোভন। সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখা, নিয়মিত সংযোগ ও মনোযোগ এই সমস্যার মাত্রা কমাতে পারে।
পরকীয়া ব্যক্তিগত হলেও এর প্রভাব পরিবার, সন্তান ও সমাজের উপর দীর্ঘমেয়াদে বিরূপ। তাই সচেতনতা, আবেগিক সমর্থন এবং খোলামেলা যোগাযোগ এ সমস্যা মোকাবেলায় অপরিহার্য।