দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৃত্যু তহিদুল ইসলামের, পরিবারে শোকের মাতম; মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্তের অপেক্ষা
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রবাসে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, বুকভরা আশা আর পরিবারের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন তহিদুল ইসলাম (২৭)। স্বপ্ন ছিল নিজের একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিশ্চিন্তে জীবন কাটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিনের মাথায় পঞ্চগড় পৌরসভার নতুন গরুহাটি এলাকায় নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এই প্রবাসফেরত যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন গরুহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তহিদুল ইসলাম ওই এলাকার সিরাজ ইসলামের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকির পরও মেলেনি সাড়া
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো নিজের ঘরে ঘুমাতে যান তহিদুল। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ডাকাডাকি করলেও ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বুধবার দুপুরের দিকে তাঁর এক ভাতিজি ঘরের পেছনের ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হলে স্বজনেরা ছুটে আসেন। মুহূর্তেই বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা
সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা সিরাজ ইসলাম। অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে বড় করেছিলেন তিনি। স্বপ্ন দেখেছিলেন, একদিন ছেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবে এবং সবার মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু সেই আশার পরিবর্তে তাঁকে এখন বহন করতে হচ্ছে সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনা।
পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা, সেই সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা।
পাকা বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন ঘিরে হতাশার কথা স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে দীর্ঘদিন কাজ করেও নিজের স্বপ্ন পূরণের মতো পর্যাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করতে পারেননি তহিদুল। দেশে ফিরে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ।
তবে বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকা কিংবা আর্থিক হতাশাই তাঁর মৃত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিস্থিতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
মরদেহ উদ্ধার, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেল, রয়ে গেল অসংখ্য প্রশ্ন
প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তহিদুল ইসলাম। পরিবারের জন্য একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, দেশে ফেরার পর তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল এবং মৃত্যুর আগে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন যথাযথ তদন্ত। একই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই জরুরি।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী হালনাগাদ প্রকাশের সুযোগ রাখা হচ্ছে।