নরসিংদীর মাধবদী ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, সহকারী কর্মকর্তা মোর্শেদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি
নরসিংদী, ৩০ জুলাই ২০২৫
নরসিংদীর মাধবদী ভূমি অফিসে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোর্শেদ আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এক কর্মকর্তাকে দুই বছরের বেশি একই স্থানে রাখা নিষিদ্ধ হলেও, মোর্শেদ আলম তা অগ্রাহ্য করে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের ছত্রছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিযোগ।
প্রতিটি ফাইলে ঘুষের দৌরাত্ম্য
স্থানীয়রা জানান, ভূমি অফিসে নামজারি বা খতিয়ান সংশোধনের জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট কাজ ফাইলচাপা, বারবার ডাক, কিংবা ভুল খুঁজে বের করে আটকে রাখা হয়। এতে সাধারণ ভুক্তভোগীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে সহকারী কর্মকর্তা মোর্শেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গোলাপ নামের একজন সহযোগী এই ঘুষ বানিজ্যে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি অফিসের আনুষ্ঠানিক কর্মচারী না হয়েও প্রতিদিন আগত সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা তোলেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে এড়িয়ে গেলেন মোর্শেদ
সহকারী কর্মকর্তা মোর্শেদের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমার বিষয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।” তাঁর এই মন্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগকে আরও পুষ্ট করেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবি
মাধবদী এলাকার ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, “নামজারি করতে গিয়ে তিনবার অফিসে যেতে হয়েছে। প্রতিবারই নতুন অজুহাত। শেষ পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সরকার ঘুষমুক্ত প্রশাসনের কথা বললেও বাস্তবে উল্টোটা দেখছি।”
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ সচেতন মো. সেলিম খান বলেন, “একই কর্মকর্তা পাঁচ বছর ধরে থেকে কী ধরনের স্বার্থসংশ্লিষ্টতা তৈরি করেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বের হয়ে আসবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা কর্তৃপক্ষের নীরবতা এবং দীর্ঘদিন এক ব্যক্তির একই স্থানে বহাল থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, এই দুর্নীতির পেছনে শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তা নয়, বরং একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে যার সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগসাজশ রয়েছে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবিতে আমরা পাশে আছি জনতার।